মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: পরবর্তী পর্যায়ে কী হবে
গতকাল সোমবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জোটের একটি সচিবালয় স্থাপন করা হয়েছে। এর প্রথম মহাসচিব পাকিস্তান থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
গতকাল সোমবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জোটের একটি সচিবালয় স্থাপন করা হয়েছে। এর প্রথম মহাসচিব পাকিস্তান থেকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে তাড়াহুড়া না করার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক ঐকমত্য ও কূটনৈতিক প্রস্তুতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্তের আহ্বান তাঁদের।
শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের পাশে আল-সাফা প্রাসাদে এক বৈঠকে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (এমজেডিএ) সই করেন।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগদানে বাংলাদেশ দেশ ও জাতির স্বার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ওমরাহ শেষে সাফসুতরো হয়ে মক্কার আল-সাফা রাজপ্রাসাদের দরবারকক্ষে এলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সঙ্গে ছিলেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এক দিন আগেই আঙ্কারা থেকে পৌঁছেছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তিন নেতা ৭ আগস্ট দুপুরে ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই জোট এ অঞ্চলে আরও বেশি স্থিতিশীলতা আনবে এবং অনিশ্চয়তা কমাতে ভূমিকা রাখবে।
মক্কা জোটের প্রতিরক্ষা চুক্তি, জাজান হামলা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্লেষণ।
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রতীকী বার্তা দিলেও চুক্তির বাস্তব লক্ষ্য ও সামরিক সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তুরস্ক বলেছে, চুক্তিতে ইরান কিংবা অন্য কোনো দেশকে অভিন্ন হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার জবাবে মুসলিম জোট গঠনের ইচ্ছা থেকে শুরু করে সৌদি-আমিরাত-ইসরায়েল সমীকরণ, ওয়াশিংটনের ভূমিকা ও ইরানবিরোধী সামরিক বাস্তবতা—সব মিলিয়ে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কেন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন টানাপোড়েন তৈরি করছে, তা নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরের পর মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ভাবনা ও যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভরতার প্রশ্ন নতুন করে জোরালো হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মত দিচ্ছেন।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত নতুন জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক সোমবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত হবে। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেবেন।