নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় রোধে 'বিন্না ঘাস' ব্যবহারের আহ্বান পানিসম্পদমন্ত্রীর
নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় রোধে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে বিন্না ঘাস রোপণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় রোধে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে বিন্না ঘাস রোপণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
জামালপুরের পাঁচটি উপজেলায় নদীভাঙন ও বন্যার তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন।
নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েও দমে যায়নি কিশোরী মোসা. সুমাইয়া। দীর্ঘ বিরতির পর দৌলতখানের মদনপুর আলোর পাঠশালায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করেছে সে।
কপোতাক্ষ নদের পাড় ঘেঁষে কাশির হাটখোলায় ছোট্ট একটি মিষ্টির দোকান। কাচের বাক্সে সারি সারি সাজানো রসগোল্লা, চমচম, কালোজাম, গজা। সামনে আরেকটি বাক্সে পেঁয়াজু ও শিঙাড়া।
মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট পরিচালিত মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালার সাবেক শিক্ষার্থী মো. হাসু মিয়া একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি কবিতা আবৃতিতেও তার অসাধারণ কৃতিত্ব ছিল তাঁর।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই হাজার জিও ব্যাগের সহায়তায় কুড়িগ্রামের মুক্তকণ্ঠ চরে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, যার ফলে তিন শতাধিক পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষা পেয়েছে।
তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকায় নদীভাঙনের ফলে হাজারো মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্প সত্ত্বেও পাউবোর অব্যবস্থাপনা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় স্থায়ী সমাধান মিলছে না, বরং সাময়িক জোড়াতালি দিয়ে বাজেট খরচ করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে খোদাবক্সপুর গ্রামের প্রায় অর্ধেক অংশ বিলীন হয়ে গেছে, যার ফলে শত শত মানুষ ভিটেমাটি ও কৃষিজমি হারিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের চারটি গ্রামে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, খরা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার মতো ঝুঁকি বাড়ার কথা বলেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানান।
জামালপুরের ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলায় যমুনা ও অন্যান্য নদীর পানি বৃদ্ধিতে ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে, যার ফলে শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ জানিয়েছেন, আগামী একনেক সভায় বড় বাজেট অনুমোদন হলে ভোলার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।