চূড়ান্ত পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে, চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখন শেষ পর্যায়ে।
জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে, চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখন শেষ পর্যায়ে।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলের তীরে ভাঙনে মাটির নিচ থেকে উন্মুক্ত হয়েছে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের দুটি সাবমেরিন কেব্ল। ভাটার সময় প্রায় ৪০ ফুট দৃশ্যমান থাকলেও কেব্ল কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে—সে বিষয়ে প্রকৌশলগত সমীক্ষা করেনি পিডিবি।
জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় চট্টগ্রামে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা। এখন দিনে গড়ে আড়াই থেকে তিন শ মেগাওয়াট পর্যন্ত ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যুতের পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা বলতে পারছেন না কর্মকর্তারা।
বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে যে বিল হয়, তার চেয়ে কম খরচে পাওয়া যায় ছাদবিদ্যুৎ থেকে।
জাতীয় গ্রিড লাইনে ত্রুটির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের একটি ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট পুনরায় চালু হয়েছে, যা বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে অনুষ্ঠিত জাতীয় রোবোটিক্স উৎসব ‘রোবোফিউশন ১.০’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দ্রুত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার নগরের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগের কয়েক দিনের তুলনায় ভিড় কমেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আংশিক শুরু হয়েছে।
আগামী মাসে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে আগামী বছর।
এফএসআরইউ-এর কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস কমে যাওয়ায় শিল্প ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে সংকট দেখা দিয়েছে; দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ১০০টি কূপ খননসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে গ্যাস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে সরকার চারটি নতুন কূপ খননের কাজ শুরু করেছে। এই চার কূপের গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে মঙ্গলবার পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। আগস্টে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।