নেত্রকোনা-১ (সদর-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই খবরে জেলার বাসিন্দারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হয়েছে মিষ্টি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কায়সার কামাল ৭০ হাজার ৮৫৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৩ ভোট। শপথ গ্রহণের পরি তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘দল আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে, এর প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই দিতে চাই। আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। জাতি, বর্ণ ও ধর্ম–নির্বিশেষে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। তাঁদের কাছে দেওয়া ওয়াদা যেন আমি রক্ষা করতে পারি, আমার জন্য সে প্রার্থনা করবেন। আমি যেন সব সময় জনগণের সেবক হয়ে থাকতে পারি।’
কায়সার কামালের বাবা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এ সম্পর্কে কায়সার কামাল বলেন, ‘আমার বাবার কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছি। আমার বাবা নব্বইয়ের দশকে জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। দাদা ও নানাও জনপ্রতিনিধি ছিলেন।’
কায়সার কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে চলে যান। সেখানে তিনি ব্যারিস্টার অ্যাট ল ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর পদার্পণ। ১৯৯৬ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্বাহী সদস্যপদ লাভ করেন। একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্যপদ লাভ করেন। ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এবারের নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী কায়সার কামালের বার্ষিক আয় ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদ ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৩ টাকা। এ ছাড়া গাড়ি ও ফ্ল্যাট মিলে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৮০০ টাকার সম্পদ আছে। তাঁর সোনার পরিমান ৩০ ভরি। তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৯০ টাকা। সোনার পরিমাণ ৫০ ভরি।
মন্ত্রিসভায় কায়সার কামাল স্থান পাওয়ায় বিএনপির নেতা–কর্মী ও জেলার বাসিন্দারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, কায়সার কামাল বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন আন্দোলন–সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁকে প্রতিমন্ত্রী করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস বিরাজ করছে।
কলমাকান্দার বাসাউড়া এলাকার বাসিন্দা বিভাস সাহা বলেন, কায়সার কামাল জননন্দিত নেতা। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর বিভিন্ন এলাকায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে জানিয়েছেন তিনি নেত্রকোনা-১ আসনের সব মানুষের এমপি। সব মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করবেন। যারা অন্যায়–অত্যাচার বা খারাপ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের এমপি তিনি নন।
আদিবাসী নেতা সুদীপ্ত হাজং বলেন, ‘কায়সার কামাল প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি অবদান রাখবেন বলে আশা করছি।’






