চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরবাগডাঙ্গায় বিস্ফোরণে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় শরিফ উদ্দিন (দুলাল) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে গতকাল রোববার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে বোমা বানানোর মূলহোতা ও মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে দাবি করেছে পুলিশ।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ। মামলার এজাহারনামীয় আসামির তালিকায় গ্রেপ্তার শরিফ উদ্দিনের নাম না থাকলেও তাঁর তত্ত্বাবধানে ভাই কালামের বাড়িতে বোমা বানানো হচ্ছিল। এ সময় বিস্ফোরণে আল আমীন ও জিহাদ আলী নামে দুই তরুণ নিহত হন এবং তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে শরিফ উদ্দিনের এক ভাতিজা ও এক চাচাতো ভাই রয়েছেন।

.এলাকাছাড়া অনেকে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বোমা বানানো হচ্ছিল.

এ প্রসঙ্গে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘তালিকায় নাম না থাকলেও তদন্তে আমরা শরিফ উদ্দিন দুলালকে মূল পরিকল্পনাকারী ও পরামর্শদাতা হিসেবে পেয়েছি। সোমবার দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।’

.চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণে নিহতের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ৫.

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান চার হত্যা মামলার আসামি ও এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত পলাতক শাহিদ রানার (টিপু) অন্যতম ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হচ্ছেন শরিফ উদ্দিন। এলাকায় শাহিদ রানার হয়ে কাজ করতেন তিনি। আগে তাঁরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর হয়ে কাজ শুরু করেন।

.

নির্বাচনের দিন জামায়াতের বিজয় মিছিল থেকে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিনসহ ধানের শীষের কর্মী–সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা হয়। পরদিন বিএনপি–জামায়াতের কর্মীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি মারধরের ঘটনা ঘটে। ঘটনার মীমাংসাও হয়। তবে এলাকায় প্রভাব–প্রতিপত্তি বিস্তার ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশে শরিফ উদ্দিন গত শনিবার রাতভর তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে বোমা বানানোর আয়োজন করেছিলেন। বানানো বোমাগুলো ব্যাগে করে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। ভোর হয়ে আসায় তাড়াহুড়া করে হাত বোমাগুলো ব্যাগে ভরতে গিয়ে বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮–১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারনামীয় আসামির তালিকায় শরিফ উদ্দিনের নাম না থাকলেও তাঁর নেতা শাহিদ রানার নাম রয়েছে ১ নম্বরে। এ মামলায় শরিফ উদ্দিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।