নির্বাচনের সরগরম প্রচারণার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসহ একটি ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ আসলে এমন কোনো কথা তিনি বলেননি। একটি স্যাটায়ার পেজের পোস্ট থেকে এ বক্তব্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

ফটোকার্ডটি দেখার পর অনুসন্ধান চালিয়ে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। কোনো সংবাদমাধ্যমে এমন কোনো খবরও পাওয়া যায়নি। ‘যমুনা টিভি’র লোগোর আদলে তৈরি ‘Janina Television’ নামে একটি ফেসবুক পেজে ৪ ফেব্রুয়ারি মূল ফটোকার্ডটি পাওয়া যায়। তবে যে কার্ড ছড়াচ্ছে, সেখানে ‘Janina Television’-এর লোগোর অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। ‘Janina Television’পেজটির বায়োতে লেখা আছে, ‘একটি বিনোদনমূলক প্ল্যাটফর্ম। আমাদের পোস্টগুলো নিছক বিনোদনের অংশ। কোনো পোস্ট সিরিয়াসলি নেবেন না।’ পেজটি পর্যবেক্ষণ করলে এমন আরও ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট পাওয়া যায়।

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ছবি যুক্ত করে ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট না দিলে হিন্দুদের ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, ভোট দিলে দাঁড়িপাল্লায় দিতে হবে’—এমন বক্তব্যসংবলিত একটি ফটোকার্ড ছড়িয়েছে ফেসবুকে, যা ভুয়া।

দৈনিক আমার দেশের ফটোকার্ডের নকশায় এ ফটোকার্ড তৈরি করা হলেও সংবাদপত্রটির ফেসবুক পেজে এমন কোনো কার্ড পাওয়া যায়নি। ফটোকার্ডটিতে তারিখ লেখা ‘০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬’। সেদিন আমার দেশ একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করেছিল, সেখানে শফিকুর রহমানের বক্তব্য ছিল—‘সব ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাব।’ ৫ ফেব্রুয়ারি নওগাঁয় এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেছিলেন। ভুয়া বক্তব্যের ফটোকার্ডের সঙ্গে মূল ফটোকার্ডের শিরোনাম বাদে অন্য সব উপাদানের মিল রয়েছে। শুধু সম্পাদনা করে বক্তব্যটি পরিবর্তন করা হয়েছে।

‘বরিশালে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ৫’ শীর্ষক একটি দাবি ফেসবুকে ছড়িয়েছে। তবে যাচাই করে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

বরিশালে সাম্প্রতিক সময়ে এমন সংঘর্ষের কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে বরিশালে মুক্তকণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক এম জসীম উদ্দীন বলেন, এটি পুরোপুরি গুজব। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

৩ ও ৬ ফেব্রুয়ারি বরিশাল বিভাগের ভোলা-২ ও ভোলা-৪ আসনে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও কেউ নিহত হননি।

কোনো তথ্যসূত্র ছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন স্থগিতের একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টগুলোতে এক লাইনে লেখা, ‘আলহামদুলিল্লাহ নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা।’ অনেকে এ দাবির সঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) একটি সংবাদ সম্মেলনের খবরও শেয়ার করছেন।

যাচাইয়ে দেখা যায়, সিপিডির সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে তাদের জরিপের ফলাফল ও মতামত জানানো হলেও নির্বাচন স্থগিতের কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আর নির্বাচন কমিশন, প্রধান উপদেষ্টা বা রাষ্ট্রপতির বরাতেও আসন্ন নির্বাচন স্থগিতের কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি কোনো সংবাদমাধ্যমে।

গত শুক্রবার রাতে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী মালামাল বিতরণ কার্যক্রম স্থগিতের একটি খবর পাওয়া যায়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করছেন, গাজীপুরের পাঁচটি আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তবে মুক্তকণ্ঠসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এখানে নির্বাচন স্থগিতের কোনো বিষয় নেই, কেবল নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ স্থগিত করা হয়েছে।