সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে মাছ ধরতে গিয়ে আবারও বনদস্যুদের কবলে পড়লেন জেলেরা। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি ঘটনায় মোট ১০ জন জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ কয়রা উপজেলার বুড়ির দুনি এলাকায় মাছ ধরার সময় বনদস্যু বাম্বা বাহিনীর সদস্যরা পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে সুন্দরবনের কাশিয়াবাদ ফরেস্ট স্টেশনের আওতাধীন এলাকায়। এর ঠিক আগে বুধবার রাতে একই বন বিভাগের বানিয়াখালি স্টেশন এলাকায় জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে আরও পাঁচ জেলে অপহৃত হন। এই দুই ধারাবাহিক অপহরণের ঘটনায় উপকূলীয় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে অপহৃত পাঁচ জেলেরা হলেন ইছাক আলী, মইন আলী, জলিল, নূর ইসলাম ও আবু। তাদের সকলের স্থায়ী ঠিকানা খুলনার কয়রা উপজেলায়।
স্থানীয় সূত্রে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে ওই জেলেরা সুন্দরবনের বুড়ির দুনি এলাকায় মাছ ধরার কাজ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সশস্ত্র বনদস্যু বাম্বা বাহিনীর সদস্যরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের জিম্মি করে এবং গভীর বনের ভেতরে নিয়ে যায়। এই অপহরণের পর থেকে নিখোঁজ জেলেদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এই বিষয়ে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, “ঘটনাটি তারা জেনেছেন। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের অভিযান চলমান রয়েছে।”
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের বানিয়াখালি স্টেশনের আওতাধীন ফুলতলা খাল থেকে পাঁচ জেলেকে অপহরণ করেছিল জাহাঙ্গীর বাহিনী। অপহৃত সেই জেলেরা হলেন মোস্তফা মোড়ল, ওসমান মোড়ল, কামরুল গাজী, মাছুম গাজী ও ইব্রাহীম গাজী।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে জাহাঙ্গীর ও মিঠু বাহিনীর মধ্যে এক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। সেই সুযোগে মোস্তফা ও ওসমান গাজী কৌশলে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। তবে কামরুল, মাছুম ও ইব্রাহীমের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সরদার লুৎফর রহমান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। সুন্দরবনে বারবার এ ধরনের অপতৎপরতা সাধারণ জেলে ও উপকূলীয় মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলছে। অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া, অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার এবং বনদস্যুদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”