সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে ডাকাতবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পৃথক দুটি অভিযানের মাধ্যমে ডাকাত সাত্তার বাহিনীর হাতে জিম্মি থাকা পাঁচজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে অভিযানের সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উদ্ধার করা পাঁচজন জেলের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজী (২৭)। জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া এই পাঁচজনের প্রত্যেকের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলায়।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের বনদস্যুদের সম্পূর্ণ নির্মূল করতে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতে বর্তমানে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সুন্দরবনের দুটি ভিন্ন এলাকায় এই অভিযানগুলো চালানো হয়।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা গিয়েছিল যে, খুলনার কয়রা থানার আওতাধীন সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় ডাকাত সাত্তার বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিপণের দাবিতে কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে কোস্টগার্ড স্টেশন কয়রা ও স্টেশন দোবেকী যৌথভাবে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালীন কোস্টগার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাত দলের সদস্যরা জিম্মি জেলেদের ফেলে রেখে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, আরেকটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড জানতে পারে যে, খুলনার দাকোপ থানার আওতাধীন সুন্দরবনের কুমড়োখালী খালসংলগ্ন এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে একটি দল অবস্থান করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন নলিয়ান যৌথভাবে ওই এলাকায় অভিযান চালায়।

সে সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা সুন্দরবনের গভীরে পালিয়ে যায়, যার ফলে কাউকে আটক বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা চারটি একনলা বন্দুক, একটি ০.২২ ক্যালিবারের বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ওই ক্যালিবারের বন্দুকের ৫২ রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। পাশাপাশি জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।