বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাট হাতে বিধ্বংসী রূপ দেখাচ্ছেন আমির জাঙ্গো। সিলেট টেস্টে তার দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বড় সংগ্রহ গড়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই ক্যারিবীয় ব্যাটার আলোচনায় ছিলেন তার বংশোদ্ভূত পরিচয় নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর গুঞ্জন উঠেছিল যে, জাঙ্গোর মা বাংলাদেশি। অবশেষে এই বিতর্কিত আলোচনার বিষয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তার মা বাংলাদেশি নন এবং পুরো বিষয়টিই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন জাঙ্গো। সেখানে তার পারিবারিক পরিচয় নিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা নাকচ করে দেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে তার মায়ের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে জাঙ্গো বলেন, ‘একদমই না। খবরটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। আমরা ত্রিনিদাদিয়ান।’

২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটারের এই মন্তব্যের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেল। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর সেন্ট জেমসে জন্ম জাঙ্গোর। ক্যারিবীয় অঞ্চলের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের সদস্য হয়ে ওঠেন।

এদিকে মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশের জন্য বড় দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছেন জাঙ্গো। সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে মাত্র ২৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের ইনিংস মেরামত করেন তিনি। চতুর্থ উইকেটে এই দুজনের ১৩১ রানের জুটিতেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারী দল।

উইকহ্যাম ৬১ রানে আউট হওয়ার পর জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে আরও ১০৬ রানের একটি জুটি গড়েন জাঙ্গো। প্রথম দিন ১১১ রান করে অপরাজিত থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটার দ্বিতীয় দিনে তার ইনিংসকে আরও সমৃদ্ধ করেন। শেষ পর্যন্ত ২১২ বলে ১৩টি চার ও দুটি ছক্কায় ১৩৩ রান করে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হন তিনি।

জাঙ্গোর এই বিশাল সংগ্রহের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে মোট ৩৫৬ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এত রান করেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন এই ক্রিকেটার। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল চারশ রানের গণ্ডি স্পর্শ করা।

জাঙ্গো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল ৪০০ রানের বেশি করা। সেদিক থেকে আমরা কিছুটা হতাশ। তবে বাংলাদেশ সত্যিই চমৎকার বোলিং করেছে। আমরা জানতাম, দ্বিতীয় দিনের নতুন বল আমাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত ইনিংসটা খুব বেশি দূর টেনে নিতে পারিনি। তারপরও ৩৫০-এর বেশি রান করতে পেরে খুশি। এখন আগামীকালের দিকে তাকিয়ে আছি।’

অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে শুরুটা খুব একটা সুখকর হয়নি। মাত্র ৫১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে মুশফিকুর রহিম ও তাওহিদ হৃদয়ের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশকে কত রানের মধ্যে আটকে দিতে চান, এমন প্রশ্নের জবাবে জাঙ্গো বলেন, ‘আমি বলব ২৫০ রানের নিচে আটকাতে চাই। তবে উইকেট ধীরে ধীরে ব্যাটিংবান্ধব হয়ে উঠছে। আগামীকাল আমাদের জন্য কাজটা সহজ হবে না। ক্রিকেটে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।’

বাংলাদেশের ব্যাটারদের চাপে রাখতে বোলারদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হয়ে লাইন ও লেংথ হারালে স্বাগতিকরা দ্রুত রান তোলার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৮ রান। মুশফিকুর রহিম ১৯ ও তাওহিদ হৃদয় ২৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এখনো ২৬৮ রানে পিছিয়ে আছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।