লাঞ্চ বিরতির আগে হাসান মাহমুদের নেওয়া শেষ উইকেটের ক্ষেত্রে কিছুটা কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন লিটন দাস। উইকেটকিপার হিসেবে লিটনের দক্ষতা বরাবরই প্রশংসিত। তবে আজ হাসান মাহমুদের বলে উইকেটের সামনে দাঁড়িয়ে জাস্টিন গ্রিভসকে লিটন যেভাবে স্টাম্পিং করলেন, তাকে অবিশ্বাস্য বললেও হয়তো কম বলা হবে।
তবে এই সাফল্যের মূল কারিগর হাসান মাহমুদ। তাঁর বলে যে পাঁচজন ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন বিভ্রান্ত হয়ে বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হয়েছেন। ব্যাটসম্যানদের এভাবে বোকা বানানোর কৃতিত্ব অন্য কাউকে দেওয়া সম্ভব নয়। গতকাল সকালের প্রথম সেশনে তাসকিনের দুটি উইকেট বাদ দিলে, সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের যে প্রত্যাশার আলো এখনো জ্বলে আছে, তার বড় কারণ হাসান মাহমুদ।
আজ দ্বিতীয় দিনের সকালের সেশনের কথা ধরা যাক। গতকাল শেষ দুই সেশনে বাংলাদেশ মাত্র একটি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছিল। আমির জাঙ্গু সেঞ্চুরি করে অপরাজিত ছিলেন এবং গ্রিভসও ক্রিজে থিতু হয়ে গিয়েছিলেন। ফলে বাংলাদেশের জয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। এমনকি আজকের প্রথম আধঘণ্টাতেও তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
কিন্তু নতুন বল হাতে নিয়েই পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হাসান। শুরুটা করেন জাঙ্গুকে আউট করে। ২১২টি বল খেলে থাকা এই ব্যাটসম্যান হাসানের বলে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হন।
ঠিক তার পরের বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন রোস্টন চেজ। গত মাসেই আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন হাসান। আজ আবারও হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। জশুয়া বিশপের প্যাডে বল লাগার পর আম্পায়ার আঙুল তুলে দিলেও রিভিউয়ের পর তিনি বেঁচে যান। ফলে হ্যাটট্রিক করার সুযোগটি হাতছাড়া হয় হাসানের।
তবে তাতে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। লিটনের অসাধারণ স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান। এর মাধ্যমে পাঁচ ভিন্ন দেশে ফাইফার পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে শুরু করে, ওই বছর সেপ্টেম্বরেই ভারতের বিপক্ষে চেন্নাইতে ৫ উইকেট পান। এরপর চলতি বছরের আগস্টে ডারউইন এবং গত মাসে আবুধাবিতে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি।
১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে এবার একটি বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করলেন হাসান। দেশের মাটিতে এটাই তাঁর প্রথম ৫ উইকেট। ৫ উইকেট পাওয়ার সংখ্যার হিসেবে হাসান এখন বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবার ওপরে অবস্থান করছেন। ৩৮ টেস্টে চারবার ৫ উইকেট পাওয়া শাহাদাৎ হোসেনকে তিনি পেছনে ফেলে দিয়েছেন।
হাসান মাহমুদের উন্নতির শেষ কোথায়, তা জানতে হলে আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। তবে তাঁর ধীরস্থির রানআপ, একই লাইন ও লেন্থে বল করার ক্ষমতা এবং অফ স্টাম্পে বল হিট করার দক্ষতা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য এই গুণগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেটে হাসান আবারও সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিলেন।