ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক নতুন আশাবাদের সূচনা হয়েছিল। প্রতিপক্ষের মাটিতে গিয়ে টেস্ট ম্যাচে জয়লাভ করা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম আনন্দদায়ক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তবে সেই ঐতিহাসিক জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই যেন বিপরীত দিকে হাঁটতে শুরু করেছে জাতীয় দল। ডারউইনের সেই দাপুটে বাংলাদেশকে এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই স্মরণীয় জয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তবে সব ফরম্যাট মিলিয়ে একটি ম্যাচেও জয়ের দেখা পায়নি তারা। দ্বিতীয় টেস্টে ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ব্যবধানে হার মানতে হয়। এরপর আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি ড্র হয়। ওয়ানডে সংস্করণের ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলা দুটি ম্যাচেই পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টেও হারতে হয়েছে তাদের। একটি বড় জয়ের পর ব্যর্থতার এই দীর্ঘ তালিকা এখন দলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিলেট টেস্টের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলের এই রূঢ় বাস্তবতা স্বীকার করেছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। তাঁর মতে, দলের মূল সমস্যাটি এখন ব্যাটিংয়ে। সিমন্স বলেন, ‘ডারউইনের পর থেকে আমরা জিততে পারিনি। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে ভালো করতে পারিনি। ডারউইনে আমরা আমাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের দৃঢ়তা ও ইতিবাচক মানসিকতার প্রতিফলন দেখা গেছে। কিন্তু এরপর যে সংস্করণগুলোতে খেলেছি, সেগুলোতে আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি।’
তবে অনুশীলনের মানের বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই সিমন্সের। তাঁর দৃষ্টিতে সমস্যাটি হলো অনুশীলনের পারফরম্যান্সকে মাঠের লড়াইয়ে রূপান্তর করতে না পারা। কঠোর পরিশ্রমের পর তা যদি ম্যাচে প্রতিফলিত না হয়, তবে সেই পরিশ্রমের সার্থকতা থাকে না। এই প্রসঙ্গে সিমন্স বলেন, ‘একটা কথা বলতে পারি, ছেলেরা কঠোর পরিশ্রম করছে। ডারউইনের আগে কিংবা পাকিস্তান সফরের আগে আমরা যেভাবে অনুশীলন করেছি, এখনো সেভাবেই করছে। কিন্তু ম্যাচে সেই অনুশীলনের প্রতিফলন ঘটাতে পারছি না। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আবারও যেন সেই পর্যায়ে যেতে পারি, যেখানে অনুশীলনে করা কাজগুলো ম্যাচেও কাজে লাগাতে পারব। শুধু মাঠের বাইরে কঠোর পরিশ্রম করলেই হবে না।’
মিরপুর টেস্টের সময় ও তার আগে চোটের কারণে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারকে হারাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ম্যাচ শুরুর আগের দিন ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। টেস্ট চলাকালীন কনকাশন ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে দল থেকে ছিটকে গেছেন মুমিনুল হক। শেষ দিনের খেলায় চোট পেয়েছেন নাজমুল হোসেনও। যদিও সিলেট টেস্টের আগে বর্তমান খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা নিয়ে খুব বেশি শঙ্কা দেখছেন না সিমন্স।
মিরপুরে স্পিন-সহায়ক উইকেট তৈরি করা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সেখান থেকে সুবিধা নিতে পারেনি। বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররাই সেখানে বেশি আধিপত্য দেখিয়েছেন। তাই সিলেটে উইকেটের ধরন নিয়ে দলের আগ্রহ প্রবল। সিমন্সের ধারণা, গত এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে যে ধরনের উইকেটে বাংলাদেশ সাফল্য পেয়েছিল, সিলেটেও তেমন পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে। সিমন্স বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে যখন খেলতে এসেছিলাম, তখনকার উইকেটের সঙ্গেই এর বেশ মিল আছে। পুরো মাঠের উইকেটের অংশটা ভালো মনে হচ্ছে, পিচও ভালো। সব মিলিয়ে তখনকার মতোই মনে হচ্ছে। তবে আগামীকাল সকালে এসে উইকেটের চূড়ান্ত অবস্থা বোঝা যাবে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই স্পোর্টিং উইকেটে জয়লাভ করেছিল বাংলাদেশ। এবারও সিমন্সের প্রত্যাশা, এই ধরনের উইকেটে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করবে দল। তবে পিচের ধরন যেমনই হোক, শেষ পর্যন্ত ব্যাটসম্যানদেরই লড়াই করে উত্তর দিতে হবে। ডারউইনের সেই হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস সিলেটে ফিরে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।