ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ফিল্ডিং করার সময় মাথায় আঘাত পেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। তার পরিবর্তে কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন জাকের আলী অনিক। তবে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা কেবল চলমান ম্যাচেই সীমাবদ্ধ নেই; আগামী সপ্তাহে সিলেটে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টেও এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল অনিশ্চয়তা। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কনকাশন শনাক্ত হলে একজন খেলোয়াড়কে অন্তত সাত দিন খেলা থেকে বিরত থাকতে হয়। মুমিনুলের চোট পাওয়ার মাত্র ছয় দিন পরেই শুরু হবে সিলেট টেস্ট, ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৭৮তম ওভারে শর্ট লেগ পজিশনে ক্যাচ ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান মুমিনুল। এরপর তার মধ্যে কনকাশনের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ দলের মেডিকেল বিভাগ তাকে বাকি ম্যাচ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

আগামী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দলের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হওয়ার কথা। প্রথম ম্যাচে চোট পাওয়ার মাত্র ছয় দিন পর মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। তাই এত অল্প সময়ের ব্যবধানে মুমিনুল পুরোপুরি সুস্থ হয়ে খেলার অনুমতি পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকবাজের তথ্যানুসারে, দ্বিতীয় টেস্টে মুমিনুলের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসকদের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ না করে এই বাঁহাতি ব্যাটার মাঠে ফিরতে পারবেন না।

আঘাতের সেই মুহূর্তটি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৭৮তম ওভারে। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে রক্ষণাত্মক শট খেলেন জশুয়া বিশপ। ব্যাটের কানায় লেগে বলটি শর্ট লেগে দাঁড়ানো মুমিনুলের দিকে যায়। তিনি বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ক্যাচটি ধরার চেষ্টা করেন। শুরুতে বল হাতে এলেও শেষ পর্যন্ত তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি তিনি।

ক্যাচ ধরার সেই প্রচেষ্টায় মাথা নিচের দিকে রেখে মাটিতে আছড়ে পড়েন মুমিনুল। মাথায় হেলমেট থাকা সত্ত্বেও পড়ে যাওয়ার পর তাকে তীব্র ব্যথা অনুভব করতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবেই মাঠে ছুটে আসেন বাংলাদেশ দলের ফিজিও। প্রাথমিক পরীক্ষার পর তাকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে মুমিনুলের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিসিবি একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করে। সেখানে জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানান, “ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৭৮তম ওভারে ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় আঘাত পেয়েছেন মুমিনুল। তার মধ্যে কনকাশনের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় চলমান টেস্টের বাকি অংশে জাকের আলীকে বদলি হিসেবে নেওয়া হয়েছে।”

কনকাশন বদলি হিসেবে অনুমোদন পাওয়ায় শুধু ফিল্ডিংয়েই নয়, বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগও পান জাকের। দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের কঠিন সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তৃতীয় দিন শেষে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার সঙ্গে সমান ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন নাঈম হাসান।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। প্রথম ইনিংসে পাওয়া ২৭ রানের লিড মিলিয়ে স্বাগতিকরা ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ১০৬ রানে এগিয়ে আছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মুমিনুলের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে মুমিনুলের দ্বিতীয় টেস্টে ফেরার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কনকাশনসংক্রান্ত কঠোর নিয়ম। ২০২৫ সালের জুনে সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালে কোনো ক্রিকেটারের কনকাশন শনাক্ত হলে তাকে মাঠে ফেরার আগে ন্যূনতম সাত দিন বিরতিতে থাকতে হবে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আইসিসির মেডিকেল অ্যাডভাইজরি কমিটির সুপারিশে এই বিধান চালু করা হয়েছে।

মুমিনুলের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই টেস্টের মধ্যকার স্বল্প বিরতির কারণে। ৩০ অক্টোবর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর ৫ নভেম্বরই দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে। অর্থাৎ, ম্যাচ শুরুর আগেই ন্যূনতম সাত দিনের বাধ্যতামূলক বিরতি পূরণ করা সম্ভব হবে না।

তবে মাঠে ফেরার ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট সময় পার হওয়াই যথেষ্ট নয়। আইসিসির কনকাশন ব্যবস্থাপনা নির্দেশনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি পর্যায়ে নতুন করে কোনো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি না, সেটিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সবশেষে প্রয়োজন হবে চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত কনকাশনের প্রাথমিক উপসর্গ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কমে আসতে পারে। তবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার সময় খেলোয়াড়ভেদে ভিন্ন হয়। ফলে মুমিনুলের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের চূড়ান্ত মূল্যায়নই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।