ক্রিকেট খেলায় ছক্কার আবেদন সব সময়ই অনন্য। এমনকি ধৈর্য আর কৌশলের লড়াই হিসেবে পরিচিত টেস্ট ক্রিকেটেও ছক্কার আলাদা কদর রয়েছে। যদিও টেস্টে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হলে তা ব্যাটসম্যানের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়, তবে সফল হলে মেলে ব্যাপক প্রশংসা। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছক্কার গুরুত্ব বহুগুণ বেশি, কারণ এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ওভার বাউন্ডারি বা ছক্কা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

টি-টোয়েন্টি মূলত ছক্কার খেলা। যত বেশি ছক্কা আসবে, দলের রান তত দ্রুত বাড়বে। তবে সব দল বা সব ব্যাটসম্যান এই চাহিদা অনুযায়ী ছক্কা মারতে পারেন না। কিছু দল এই ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা দেখিয়েছে, যাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখতে ক্রিকেটপ্রেমীরা দারুণ আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার কথা উঠলে অধিকাংশ মানুষের মাথায় প্রথমেই আসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কথা। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে অনায়াসে বল সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর। পরিসংখ্যানও এই দাবির সপক্ষে কথা বলে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ছক্কা মারার হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

বর্তমান প্রতিবেদনটি যখন লেখা হচ্ছে, তখন ২০২৬ সাল। নতুন কোনো সূচি যুক্ত না হলে এই বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের আর কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নেই। এর অর্থ হলো, ২০২৬ সাল শেষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোট ছক্কার সংখ্যা দাঁড়াবে ২০২৬টি।

ছক্কার এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। তারা এখন পর্যন্ত মেরেছে ২০১৭টি ছক্কা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে তাদের ব্যবধান মাত্র ৯টি ছক্কার। তবে ভারত ম্যাচ খেলেছে অনেক বেশি—মোট ২৯৮টি। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ সংখ্যা ২৬০টি।

তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, যাদের ছক্কার সংখ্যা ১৫৮৫টি। এরপরই আছে পাকিস্তান, তাদের ছক্কা ১৫০৭টি। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার ছক্কার সংখ্যা ১৪০০-এর কাছাকাছি। অর্থাৎ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারত ছাড়া আর কোনো দল ২০০০ ছক্কার মাইলফলকের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বেশ হতাশাজনক। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মেরেছে ৯৮৬টি ছক্কা, আর ম্যাচ খেলেছে ২২২টি। ছক্কার হিসেবে শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের সংখ্যাই হাজারের নিচে। এমনকি আফগানিস্তানও বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ছক্কা মেরেছে, তাদের সংখ্যা ১০১৪টি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শুরু করেছে ২০০৬ সালে, আর আফগানিস্তান শুরু করেছে তার চার বছর পর ২০১০ সালে। ম্যাচ সংখ্যার দিক থেকেও আফগানিস্তান অনেক পিছিয়ে, তারা খেলেছে মাত্র ১৬৮টি ম্যাচ।

প্রতি বলে ছক্কার গড় হিসাবেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সবার উপরে। তারা প্রতি ১৩.৯৩ বলে একটি ছক্কা মেরেছে। ভারতের ক্ষেত্রে এই গড় ১৬.১৬ বল। অস্ট্রেলিয়ার ১৭.৪৭, ইংল্যান্ডের ১৮.০০ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮.৪০ বল। নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে প্রতি ছক্কায় গড় বল ১৮.০৯।

বল প্রতি ছক্কার এই হিসেবেই বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ একটি ছক্কা মারতে গড়ে ২৫.৩৯ বল খেলেছে। অর্থাৎ, ১২০ বলের একটি ম্যাচে বাংলাদেশ গড়ে প্রতি ২৫ বল পর একটি ছক্কা পায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে এই ব্যবধান ১১ বলের বেশি। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কেবল শ্রীলঙ্কাই বাংলাদেশের চেয়ে বেশি বল খরচ করে ছক্কা মারে; তাদের গড় বল ২৬.১২।

তবে ব্যাটসম্যানদের সেঞ্চুরির হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিছুটা পিছিয়ে। এখানে সবচেয়ে এগিয়ে ভারত, যাদের ব্যাটসম্যানরা করেছেন মোট ২৭টি সেঞ্চুরি। এই তালিকায় তারা সবার চেয়ে অনেক দূরে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক নিউজিল্যান্ড, যাদের সংগ্রহ ১৪টি।

ফিফটির হিসেবেও ভারত শীর্ষে, তাদের ব্যাটসম্যানদের ফিফটি আছে ২৫৫টি। ভারত ছাড়া কেবল পাকিস্তানের ফিফটি সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে, তারা করেছে ২০২টি। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেঞ্চুরি ৯টি এবং ফিফটি ১৫৮টি।

বাংলাদেশের জন্য আরও দুঃসংবাদ হলো, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে মাত্র দুজন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন—তামিম ইকবাল ও পারভেজ হোসাইন। এখানেও আফগানিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ, কারণ আফগানিস্তানের সেঞ্চুরি ৩টি। এমনকি জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদেরও ৩টি সেঞ্চুরি রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি করা ১০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ জায়গা করে নিতে পারেনি।

স্ট্রাইকরেটের হিসেবেও শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের গড় স্ট্রাইকরেট ১১৭.২৫ এবং গড় রান ১৯.৩৪, যা ২০-এর নিচে। স্ট্রাইকরেট এবং গড়—উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত।