চলচ্চিত্রের পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের ক্ষেত্রে অভিনয়শিল্পীদের অস্বস্তি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমারেখা এবং পারস্পরিক সম্মতির বিষয়টি বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই ধরনের সংবেদনশীল দৃশ্যের শুটিংয়ে অভিনয়শিল্পীদের সহায়তা করার জন্য এখন নিয়োগ করা হয় ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’র অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা মোহিত মালিক এবং অভিনেত্রী রসিকা দুগাল। তাঁদের মতে, একজন ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের উপস্থিতির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি পেশাদার এবং স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠেছিল। প্রেক্ষাগৃহে ব্যাপক সাড়া ফেলে সিনেমাটি সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে।
ভারত টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহিত মালিক জানান, ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’তে অভিনয়ের আগে তিনি কখনো কোনো অন্তরঙ্গ দৃশ্যে কাজ করেননি। এই কারণে শুটিংয়ের আগে তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে সহ-অভিনেত্রী রসিকা দুগাল তাঁকে মানসিকভাবে স্বচ্ছন্দ হতে সাহায্য করেন। পাশাপাশি ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর অঙ্কিতা পোদ্দার পুরো শুটিং প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন।
মোহিত আরও জানান, দৃশ্য ধারণের আগে তাঁরা দুজন নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং অস্বস্তির জায়গাগুলো নিয়ে বিস্তারিত ও খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন। শরীরের কোন অংশে স্পর্শ করা যাবে এবং কোথায় যাবে না—সেই সীমারেখা আগে থেকেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। এমনকি দৃশ্য ধারণের সময় কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সহ-অভিনেত্রীর অনুমতি নেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।
মোহিতের কথায়, “প্রথমবার কোনো ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের সঙ্গে কাজ করলাম। সহ-অভিনেত্রী কোন বিষয়ে স্বচ্ছন্দ, কোথায় স্পর্শ করা যাবে আর কোথায় যাবে না, তা জেনে নেওয়া খুব ভালো অভিজ্ঞতা। আমরা দুজনই নিজেদের অস্বস্তির জায়গাগুলো জানিয়েছিলাম। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছি, এটা করতে পারি কি না। আর পুরো বিষয়টি পরিচালনার জন্য একজন দক্ষ মানুষও ছিলেন।”
ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন অভিনেত্রী রসিকা দুগালও। তাঁর মতে, আগে থেকেই সবকিছু পরিকল্পনা করে ঠিক করা থাকায় শুটিংয়ের সময় তাঁদের কেবল অভিনয়ের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ দিতে সুবিধা হয়েছে।
রসিকার ভাষায়, “আমরা অভিনয়ের দিকটায় পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পেরেছি। কে কিসে স্বচ্ছন্দ, পরিচালক কী চান—এসব নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করতে হয়নি। পুরো বিষয়টি খুব ভালোভাবে সামলানো হয়েছিল।”
মোহিত মালিক জানান, অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং নিয়ে তিনি তাঁর স্ত্রী এবং সহ-অভিনেত্রী অদিতি মালিকের সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন। দৃশ্যগুলোর বিষয়বস্তু তিনি স্ত্রীকে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলেছিলেন। সিনেমাটি দেখার পর স্ত্রী তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, তিনি এই দৃশ্যগুলো নিয়ে স্বচ্ছন্দ কি না।
মোহিত বলেন, “একজন বিবাহিত পুরুষের আগে তিনি একজন অভিনেতা।” তাঁর স্ত্রী অদিতি বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। অদিতি তাঁকে বলেছিলেন, চরিত্রের যাত্রায় যদি দৃশ্যগুলো প্রয়োজনীয় হয়, তবে সেগুলো গল্পের অংশ হিসেবেই থাকা উচিত। মোহিতের মতে, অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রে কেবল অভিনেতাদের নিজেদের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়; বরং এ ধরনের দৃশ্যের শুটিংয়ে একজন পেশাদার ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের উপস্থিতি অত্যন্ত প্রয়োজন।
সাধারণত ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটরের কাজ হলো অন্তরঙ্গ দৃশ্যের পরিকল্পনা করা, অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত সীমারেখা নির্ধারণে সহায়তা করা এবং শুটিংয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় সবার সম্মতি নিশ্চিত করা। এর ফলে দৃশ্যের প্রয়োজনীয়তা বজায় রেখেও অভিনেতাদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
‘মির্জাপুর’ সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া মোহিত মালিকের জন্য এই অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ নতুন। অন্যদিকে, রসিকা দুগাল ‘মির্জাপুর’ সিরিজে বিনা ত্রিপাঠী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন। নতুন সিনেমাতেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাবে।