বলিউডের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কণিকা কাপুরের ব্যক্তিগত জীবনে আবারও বিচ্ছেদের কালো মেঘ। ব্যবসায়ী স্বামী গৌতম হাতিরামানির সঙ্গে চার বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। গত ৩ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ‘বেবি ডল’ খ্যাত এই গায়িকা। এটি কণিকার জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবিচ্ছেদ। এর আগে ২০১২ সালে তাঁর প্রথম স্বামী রাজ চন্দকের সঙ্গে আইনিভাবে আলাদা হয়েছিলেন তিনি।
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে প্রকাশিত সেই বিবৃতিতে কণিকা লিখেছেন, ‘প্রিয় বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা, অনেক চিন্তাভাবনা ও বিবেচনার পর আমি ও আমার স্বামী আলাদা পথে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একসঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা জানাই। আমাদের জীবনের এই পরিবর্তনের সময় সবার কাছে অনুরোধ, আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকুন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখান।’
বিচ্ছেদের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি এই গায়িকা। তবে লক্ষ্য করা গেছে, বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক একদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিয়ের সব ছবি সরিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। সেই মুহূর্ত থেকেই তাঁদের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন।
তৃতীয় কেউ নেই, জানালেন কণিকা
বিচ্ছেদের খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে গৌতমের কর্মস্থল নাইজেরিয়ার লাগোসে গিয়ে থাকতে না চাওয়ায় তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে এই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন কণিকা।
মুম্বাই মিররকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কণিকা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁদের বিচ্ছেদের পেছনে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির কোনো ভূমিকা নেই। তাঁর ভাষায়, তিনি নতুন কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়াননি। তাঁর জানা মতে, গৌতমও অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়াননি।
কণিকা বলেন, দ্বিতীয়বার বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য স্বাভাবিকভাবেই কষ্ট ও হতাশার। লাগোসে থাকতে চাননি বলে তাঁদের সংসার ভেঙেছে, এমন ধারণাও সঠিক নয় বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, কোনো দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে গেলে নারীকেই প্রথমে দায়ী করার প্রবণতা অন্যায্য। একটি সম্পর্কে ঠিক কী ঘটেছে, তা কেবল সেই দুজন মানুষই জানেন।
তিন সন্তানের দায়িত্বও কণিকাকে সামলাতে হয়। তাই বিচ্ছেদের পর গৌতমের সঙ্গে সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ রাখতে চান তিনি। ভবিষ্যতে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
১৫ বছরের বন্ধুত্ব থেকে বিয়ে
কণিকা ও গৌতমের পরিচয় দীর্ঘ ১৫ বছরের। বিয়ের আগে তাঁরা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। সময়ের সাথে সেই বন্ধুত্বই প্রেমের রূপ নেয়।
কণিকা জানিয়েছিলেন, ২০১৪ সালে প্রথমবার গৌতমকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালেও একই প্রস্তাব দেন। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালের আগস্টে গৌতম তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এরপর ২০২২ সালের ২০ মে লন্ডনে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁরা।
বিয়ের আয়োজনে কণিকার তিন সন্তানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ছেলে যুবরাজ মাকে বিয়ের মণ্ডপে নিয়ে গিয়েছিলেন। দুই মেয়ে আয়ানা ও সামারাও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় পাশে ছিল।
১৮ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে, ২০১২ সালে বিচ্ছেদ
কণিকার প্রথম বিয়ে হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। লন্ডনপ্রবাসী চিকিৎসক ও ব্যবসায়ী রাজ চন্দকের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় সংসার করার পাশাপাশি বড় করেছেন তাঁর তিন সন্তানকে।
তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে আয়ানা ও সামারা এবং ছেলে যুবরাজ। তবে ২০১২ সালে তাঁদের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। বিচ্ছেদের পর ভারতে ফিরে সংগীতজীবনে পূর্ণ মনোযোগ দেন কণিকা।
প্রথম সংসার ভাঙার পর সন্তানদের নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর গানের জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। প্রায় এক দশক পর পুরোনো বন্ধু গৌতমের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করলেও চার বছর পর সেই সম্পর্কটিও ভেঙে গেল।
‘বেবি ডল’ থেকে বলিউডের জনপ্রিয় কণ্ঠ
কণিকা কাপুরের সংগীতজীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০১৪ সালে। সানি লিওনি অভিনীত ‘রাগিণী এমএমএস ২’ সিনেমার ‘বেবি ডল’ গানটি রাতারাতি তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। গানটির সংগীতায়োজন করেছিল মিট ব্রাদার্স। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
একই বছর শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ সিনেমার ‘লাভলি’ গানেও কণিকার কণ্ঠ শোনা যায়। এরপর ‘রয়’ সিনেমার ‘ছিটিয়া কালাইয়া’, ‘এক পেহেলি লীলা’র ‘দেশি লুক’, ‘অল ইজ ওয়েল’-এর ‘নাচান ফারাতে’ এবং ‘উড়তা পাঞ্জাব’-এর ‘দা দা দাসে’ গানগুলো তাঁকে আরও পরিচিতি এনে দেয়।
শাহরুখ খানের ‘দিলওয়ালে’ সিনেমার ‘টুকুর টুকুর’ গানেও কণিকার কণ্ঠ রয়েছে। এ ছাড়া ‘পুষ্পা: দ্য রাইজ’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘ও আন্তাভা’র হিন্দি সংস্করণেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।
২০১২ সালে জিউসের সঙ্গে ‘জুগনি জি’ গান দিয়ে সংগীতজগতে পরিচিতি পেয়েছিলেন কণিকা। পরে বলিউডের প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। ২০১৯ সালে সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘দ্য ভয়েস’-এ বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।