হলিউডের চলচ্চিত্রে অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা এবং সেই সময়ের শুটিং পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা মাইকেল ডগলাস। তাঁর মতে, এই ধরনের সংবেদনশীল দৃশ্য ধারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো অভিনয়শিল্পীদের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস। এর পাশাপাশি স্পষ্ট যোগাযোগ, পারস্পরিক সম্মতি এবং সহশিল্পীর মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
সম্প্রতি নিউইয়র্কের ৯২এনওয়াইয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ আলোচনা সভায় ৮২ বছর বয়সী এই প্রবীণ অভিনেতা তাঁর এই অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন ‘হ্যাপি স্যাড কনফিউজড’ পডকাস্টের উপস্থাপক জশ হোরোভিটজ। মূলত নিজের স্মৃতিকথা ‘ওয়ান হেলুভা রাইড’ প্রকাশের আগে প্রচারণার অংশ হিসেবেই এই আলোচনায় অংশ নেন ডগলাস।
‘বেসিক ইনস্টিংক্ট’, ‘ফ্যাটাল অ্যাট্রাকশন’ এবং ‘ডিসক্লোজার’-এর মতো জনপ্রিয় ও সাহসী চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কারণে পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে মাইকেল ডগলাসের। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ে এখনকার মতো ‘ইনটিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যের সমন্বয়কের কোনো প্রচলন ছিল না। সেই সময়ে এই জটিল দৃশ্যগুলো কীভাবে ধারণ করা হতো, সে বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ছবিতে অনেক অন্তরঙ্গ দৃশ্য থাকে। এসব দৃশ্য ধারণ করা সহজ নয়। তবে অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বিশ্বাস।”
দৃশ্য ধারণের সময় দুই অভিনয়শিল্পীর মধ্যে বোঝাপড়া তৈরির প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি একে একটি নাচের সাথে তুলনা করেন। তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে এগোতে হয়, সব বিষয়ে কথা বলে নিতে হয় এবং কোন আচরণে অপর পক্ষের সম্মতি রয়েছে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
উদাহরণস্বরূপ ডগলাস বলেন, কোনো দৃশ্যে সহশিল্পীকে স্পর্শ করার আগে তাঁর অনুমতি চাওয়া এবং ঠিক কী করা হবে, তা স্পষ্ট করে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, প্রক্রিয়াটি অনেকটা মারামারির দৃশ্যের কোরিওগ্রাফি করার মতো। শুরুতে সবকিছু ধীরে ধীরে ঠিক করে নেওয়া হয়, এরপর ক্যামেরার সামনে দৃশ্যটি ধারণ করা হয়। পরিশেষে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেই পারস্পরিক বিশ্বাস।
পুরুষপ্রধান চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে নারী সহশিল্পীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার বিষয়েও কথা বলেন ডগলাস। তিনি মনে করেন, বিশেষ করে পুরনো দিনের শুটিং পরিবেশে নারী অভিনয়শিল্পীদের চারপাশে অধিকাংশ সময়ই পুরুষ কলাকুশলীদের ভিড় থাকত। তাই তাঁরা যেন যতটা সম্ভব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেই বিষয়টি তিনি সবসময় নিশ্চিত করার চেষ্টা করতেন।
নিজের স্মৃতিকথা ‘ওয়ান হেলুভা রাইড’-এ ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা ও কঠিন অধ্যায় তুলে ধরেছেন ডগলাস। বইটিতে তাঁর অতীতের প্রেমের সম্পর্ক, মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই এবং হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা কার্ক ডগলাসের পুত্র হিসেবে সব সময় আলোচনার কেন্দ্রে থেকে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে।
জীবনের এই কঠিন স্মৃতিগুলো বইয়ে স্থান দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ডগলাস বলেন, কষ্টের স্মৃতি মানুষ সাধারণত ভুলে যেতে চায়। কিন্তু নাতি-নাতনিরা যেন তাঁর জীবনের পুরো গল্পটি জানতে পারে, সে কারণেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতাগুলো আড়াল করতে চাননি।
নিজের দুর্বলতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের স্পর্শকাতর বিষয়গুলো প্রকাশ করার ব্যাপারে শুরুতে তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে পাঠকেরা তাঁর এই খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
আলোচনায় তাঁর স্ত্রী ক্যাথরিন জেটা-জোনসের সঙ্গে বয়সের ২৫ বছরের ব্যবধানের বিষয়টিও উঠে আসে। ডগলাস জানান, স্মৃতিকথার সব ঘটনা তাঁর স্ত্রী আগে থেকেই জানতেন তা নয়; বইটি হাতে পাওয়ার সময়ও খুব বেশি দিন অতিবাহিত হয়নি। অতীতের কিছু ঘটনা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি জানান, সেগুলো ক্যাথরিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয়ের আগের সময়ের ঘটনা।