কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহীন আলম (১৪) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। দ্রুতগতির একটি অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১২টার দিকে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন শাহীন আলমের মৃত্যু হয়। এই আকস্মিক এবং হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী এবং পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নিহত শাহীন আলম ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের কুঠিরচন্দ্রনানা নাখারজান গ্রামের resident কাশেম আলীর পুত্র। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
শাহীনের সহপাঠীদের কাছ থেকে জানা গেছে, ঘটনার দিন তিনি কয়েকজন বন্ধুর সাথে সাইকেলে করে গঙ্গারহাট বাজার থেকে নিজ বাড়ির দিকে ফিরছিলেন। তারা যখন গঙ্গারহাট মোহরটারী হাফিজিয়া মাদ্রাসার নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছান, তখন একটি দ্রুতগামী অ্যাম্বুলেন্স একটি অটোরিকশাকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। এই সময় অ্যাম্বুলেন্সটি সরাসরি শাহীনের সাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি প্রচণ্ড জোরে সড়কে ছিটকে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন। সহপাঠীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পরপরই অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত গতিতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই উপস্থিত সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হলেও তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে তাকে রংপুরের একটি বেসরকারি ডক্টরস ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রিয় সন্তান শাহীনকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তার অকাল প্রয়াণে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। একই সাথে তার সহপাঠী এবং শিক্ষকদের মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে।
এই ঘটনার বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অবগত করেনি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”