দীর্ঘ কর্মজীবনের সমাপ্তিতে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী বিদায়ী সংবর্ধনার সাক্ষী হলেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ মোক্তার আলী। সহকর্মীদের ভালোবাসায় তাকে ফুল দিয়ে সাজানো এক রিকশায় চড়িয়ে পুরো উপজেলা ঘুরিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এমন অভাবনীয় সম্মাননা ও ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) মোক্তার আলীর অবসর গ্রহণের উপলক্ষ্যে এই বিশেষ আয়োজনের কথা জানানো হয়। তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য এবং অন্যান্য গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মোক্তার আলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরপর তাকে ফুলসজ্জিত একটি রিকশায় বসিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ঘুরিয়ে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান সহকর্মীরা। এই পুরো প্রক্রিয়ায় তাদের সঙ্গে সাথে ছিলেন ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর-রশিদ হারুন।
দীর্ঘদিন একসঙ্গে দায়িত্ব পালনের ফলে সহকর্মীদের সঙ্গে মোক্তার আলীর এক গভীর ও আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কর্মজীবনের নানা স্মৃতিচারণ এবং একসঙ্গে কাটানো সময়ের গল্পে পুরো বিদায় অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত আবেগঘন হয়ে ওঠে।
বিদায়বেলায় নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে মোক্তার আলী বলেন, “চাকরিজীবনের শেষ সময়ে সহকর্মীরা আমাকে এতটা ভালোবাসা ও সম্মান জানাবেন, তা আমি কখনো ভাবিনি। এমন আয়োজন আমাকে আনন্দিত ও অভিভূত করেছে। সহকর্মীদের এই ভালোবাসা আজীবন মনে রাখব।” এই সময় তিনি উপস্থিত সবার জন্য দোয়া করেন।
মোক্তার আলীর কর্মদক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর-রশিদ হারুন বলেন, “মোক্তার আলী অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে বিদায় জানাতে গিয়ে সবারই খারাপ লাগছে। তার অবসরজীবন সুস্থ, সুন্দর ও আনন্দময় হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”