পর্তুগালের আগামী দিনের স্কোয়াডে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জায়গা পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। কোচ জর্জ জেসুস নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন যে, জাতীয় দলের দরজা রোনালদোর জন্য সব সময়ই খোলা। তবে জেসুস একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, পর্তুগালের মূল একাদশে রোনালদো আর ‘অটোমেটিক চয়েস’ নন। ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ফুটবলার সম্ভবত এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে পারেননি।
ধারণা করা হচ্ছে, একাদশে নিয়মিত জায়গা না পেলে কেবল স্কোয়াডে থেকে বেঞ্চে বসে থাকার কোনো মানে খুঁজে পাননি রোনালদো। এই মানসিকতা থেকেই কি নেশনস লিগে ডেনমার্ক এবং ওয়েলস ম্যাচের জন্য জেসুস দল ঘোষণা করার ঠিক একদিন আগে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি?
এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কেবল রোনালদোই দিতে পারবেন। তবে ফুটবল বিশ্বে প্রচলিত ধারণা হলো, রোনালদোর এই আকস্মিক অবসরের পেছনে কোচ জেসুসের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাদার বিরোধের প্রভাব কম ছিল না।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, জেসুস নিজেও চেয়েছিলেন রোনালদো আরও কিছু সময় জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত থাকুন। তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রোনালদোকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি ছিল খেলোয়াড়ের নিজস্ব। তাই রোনালদোর এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়েছেন জেসুস।
গতকাল রোনালদো অবসরের কথা জানানোর পর পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) টিভি চ্যানেল ‘ক্যানাল ১১’–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেসুস বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণভাবে তাঁর সিদ্ধান্ত। প্রথম দল ঘোষণার আগেই এ বিষয়ে আমাদের কথা বলার সুযোগ হয়েছে। আমি তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছি। আমার সঙ্গে থেকে যাওয়ার অনুরোধ, কারণ তাকে আমার পাশে দরকার ছিল। কিন্তু তার সিদ্ধান্তটা আমাকে মেনে নিতে হবে।’
উল্লেখ্য, জেসুসের সঙ্গে মতভেদের কারণে গত সেপ্টেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে পর্তুগালের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগ ম্যাচে তিনি একাদশে ছিলেন না এবং বদলি খেলোয়াড় হিসেবেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি। এরপর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও একাদশে জায়গা হবে না জানার পর কোপেনহেগেনে দলের ক্যাম্প ত্যাগ করেন রোনালদো। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা তখন কোচ জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিলেন।
পরবর্তীতে এই ঘটনার জন্য রোনালদো নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং নিজেই শাস্তির দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে এফপিএফ তাঁকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে। এই সাজার মেয়াদ শেষ হলে নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেশনস লিগে রোনালদোকে আবারও পর্তুগাল জার্সিতে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন কোটি কোটি ভক্ত। কিন্তু তার আগেই অবসরের ঘোষণা দিয়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটালেন তিনি।
অবসরের এই মুহূর্তে রোনালদোকে উচ্চপ্রশংসায় ভূষিত করেছেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘সে এই বিশ্ব, পর্তুগাল ও জাতীয় দলের জন্য উদাহরণ। এমন একজন খেলোয়াড়, যে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলকে অনেক কিছু দিয়েছে। সে পর্তুগিজ তরুণদের প্রতীক। তার বেশির ভাগ ভক্তই তরুণ। আল নাসরে তার সঙ্গে এক বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। সে সব সময় আমাদের জাতীয় দল, আমাদের মানুষ এবং আমাদের ইতিহাসের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন সদর দপ্তরে রোনালদোকে স্মরণীয় করে রাখার একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগের কথা জানান জেসুস। তিনি বলেন, ‘আমাদের অডিটোরিয়ামে তাঁর একটি বড় ছবি রয়েছে, যাতে সেখানে প্রতিদিন আসা সব তরুণ এবং আমাদের সহকর্মীরা তাঁর ছবি দেখতে পান।’
রোনালদোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেসুস তাঁর কথা শেষ করেন এভাবে, ‘সে সব সময় পর্তুগালের মানুষের হৃদয়ে ও জাতীয় দলে থাকবে। এর বাইরে অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই, কারণ সে পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য সব সময় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।’