পর্তুগাল ২-১ নরওয়ে

কে অপরাধী, সেই প্রশ্নের উত্তর যেন ব্যানারের দুই প্রান্তে থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও জর্জ জেসুসের ছবিতেই ফুটে উঠেছে। সেখানে রোনালদোর ছবিটি কিছুটা বড় করে দেওয়া হয়েছে। ছবি দুটোর মাঝখানে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘ধন্যবাদ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।’ পর্তুগাল কোচ জেসুসকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া এই বার্তার সুর যে খুব একটা ইতিবাচক নয়, তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই।

লিসবন শহরে তিনটি এবং পোর্তো শহরে একটির কথা জানা গেছে এমন ব্যানার শোভা পাচ্ছে। পোর্তো শহরের দ্রাগাও স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে জেসুসের নজর কি এই ব্যানারের দিকে পড়েছে? তবে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় অর্জনের পর এই ব্যানারটি চোখে পড়লেও জেসুসের তা গুরুত্ব দেওয়ার কথা নয়। কারণ রোনালদোর পরিবর্তে মাঠে নামা গনসালো রামোস নিয়মিত গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

নেশনস লিগের আগের তিনটি ম্যাচেই জয়লাভ করা পর্তুগাল ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত প্রথমবারের মতো পয়েন্ট হারানোর আশঙ্কায় ছিল। তবে পরের মিনিটেই ভিতিয়ার বক্সে বাড়ানো বল জোয়াও ফেলিক্স সামনে ঠেলে দিলে আলতো টোকায় জয়সূচক গোলটি করেন রামোস।

ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকে আর মাঠে নামেননি রোনালদো। তাঁর শূন্যস্থানে সুযোগ পাওয়া রামোস গত তিনটি ম্যাচেই গোল করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় ‘পারফেক্ট’ পর্তুগাল চার ম্যাচের সবগুলো জিতে নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।

তবে এই জয়ের আনন্দ ষোলো আনা পূর্ণ হয়নি পর্তুগালের। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় পর্তুগালের উইঙ্গার ফ্রান্সিসকো কনসেইসাওকে। পেনাল্টির আবেদনে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি প্রথম হলুদ কার্ডটি পান। এরপর রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর কারণে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ইনজুরি টাইম মিলিয়ে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট পর্তুগাল ১০ জন নিয়ে লড়াই করলেও নরওয়ে আর কোনো গোল করতে পারেনি।

ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে অসলোয় নরওয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তাঁকে বসতে হয় বেঞ্চে। এরপর কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও জেসুস তাঁকে বেঞ্চেই রাখার সিদ্ধান্ত জানানোর পর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। পর্তুগিজ কিংবদন্তির পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া রামোস এই দুটি ম্যাচেই গোল করেছেন। নরওয়ের মাঠে তাঁর গোলেই জয় নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল, যদিও তারা স্বাগতিক ছিল।

ম্যাচের আধা ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর পর্তুগাল পিছিয়ে পড়েছিল। ৩৬ মিনিটে বক্সের ডান কর্নারের বাইরে থেকে ভলিতে একটি চোখ ধাঁধানো গোল করেন নরওয়ের সেন্টার ব্যাক ক্রিস্টোফ আয়ার। তবে দুই মিনিট পরেই ভলির জবাব ভলিতেই দেন কানসেলো। থ্রো-ইন থেকে বক্সে বল পেয়ে ডান পায়ের ভলিতে গোল করেন তিনি।

গ্রুপ এ৪-এর শীর্ষস্থানে রয়েছে পর্তুগাল। ৪ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট। একই গ্রুপে ওয়েলসের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পাওয়া ডেনমার্ক সমান ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। সমান ৩ পয়েন্ট করে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ওয়েলস ও নরওয়ে। নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে গ্রুপের প্রতিটি দল আরও দুটি করে ম্যাচ খেলবে। তবে গ্রুপে শীর্ষ দুটি স্থানের একটি নিশ্চিত করে আগামী বছরের মার্চে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট আগেভাগেই কেটে নিয়েছে পর্তুগাল।

দ্রাগাও স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে দুয়ো শোনার পাশাপাশি করতালিও পেয়েছেন কোচ জেসুস। অন্যদিকে, মাদ্রিদ থেকে উড়াল দিয়ে সৌদি আরবে ফিরে গেছেন রোনালদো। নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তাঁকে আবারও পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।