ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বর্তমানে পর্তুগাল জাতীয় দলে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে তাঁর প্রত্যাবর্তনের আশা ধরে রেখেছে পর্তুগাল। তবে ফুটবল কিংবদন্তি এই তারকা কি সত্যিই ফিরবেন? তাঁর বোন এলমা আভেইরোর সাম্প্রতিক মন্তব্য রোনালদোর সমর্থকদের মনে হতাশা তৈরি করতে পারে।
চলতি মাসের আন্তর্জাতিক বিরতিতে উয়েফা নেশনস লিগের চারটি ম্যাচে অংশ নিয়েছিল পর্তুগাল। দ্বিতীয় ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে বসে থাকার পর, ডেনমার্কের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচের আগেই পর্তুগাল দল ছেড়ে চলে যান রোনালদো। পরবর্তীতে তিনি জানান, পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুস তাঁকে দেওয়া দুটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। তবে জাতীয় দল ছেড়ে যাওয়ার কারণে ৪১ বছর বয়সী এই তারকা নিজের জন্য শাস্তির দাবিও জানান।
রোনালদোকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। তবে সংস্থাটির সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সা চান নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতেই রোনালদো জাতীয় দলে ফিরে আসুক। সম্প্রতি পোর্তোর নতুন মাঠ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রোয়েন্সা বলেন, “আমরা সবাই অধিনায়ককে ফিরে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
এখন মূল প্রশ্নটি হলো, রোনালদো কি সত্যিই জাতীয় দলে ফিরবেন?
এই বিষয়ে রোনালদোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কথা শোনা যায়নি। তবে তাঁর বোন এলমা আভেইরো এ নিয়ে কথা বলেছেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার একটি বই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ছোট ভাইয়ের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে হতাশাজনক মন্তব্য করেন এলমা। উল্লেখ্য, ওই অনুষ্ঠানে পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুসও উপস্থিত ছিলেন।
রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনা সম্পর্কে এলমা বলেন, “হ্যাঁ হওয়ার চেয়ে না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমার মনে হয় দুজনেই (রোনালদো ও জেসুস) আঘাত পেয়েছেন। এটা এমন পরিস্থিতি, যেখানে তাঁরা নিজেরা মুখোমুখি, আমি নই; আমি শুধু আমার ভাইয়ের হয়ে কথা বলছি।”
এলমা আরও যোগ করেন, “পরিস্থিতি আসলে থমকে আছে, দেখা যাক কী হয়। আমি জানি না, এটি ভীষণ জটিল। যখন আমরা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হই, তখন সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন।”
এলমার এই মন্তব্যের পর রোনালদোকে আর কখনো পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আরও বেড়েছে। পাশাপাশি পর্তুগাল ফুটবলে রোনালদোর অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে হতাশা প্রকাশ করেন এলমা। তাঁর বিশ্বাস, রোনালদোর অর্জনগুলো আরও বেশি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য এবং এই বিতর্কের মুখে পড়া তাঁর ভাইকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
অন্যদিকে, রোনালদোর জাতীয় দলের সতীর্থরা এই বিরোধের দ্রুত মীমাংসার ব্যাপারে আশাবাদী। পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনিয়া সম্প্রতি বলেন, “আমি শুধু চাই সবকিছু ভালোভাবে সমাধান হোক। আশা করি, তিনি (রোনালদো) ফিরে আসবেন এবং সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে। সত্যি বলতে, আমরা সবাই এটিই চাই। আমি আশা করি, তিনি ফিরে আসবেন এবং সবকিছুর সুরাহা হবে।”
জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে সৌদি আরবে নিজের ক্লাব আল নাসরে ফিরেছেন রোনালদো। ক্লাবটির সর্বশেষ ম্যাচে তিনি গোলও করেছেন। তবে এরই মধ্যে অন্য এক বিতর্কেও জড়িয়েছেন এই তারকা। সিএনএন পর্তুগালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজেকে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার দাবি করে রোনালদো বলেন, “আমার নামের পাশে সংখ্যাগুলোই সব বলছে।”
ক্যারিয়ারে ৯৮১টি গোল করা কিংবদন্তির এমন দাবি অনেকেই সহজভাবে নেননি। তাঁর একসময়ের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থ ওয়েইন রুনির প্রতিক্রিয়া ছিল তীক্ষ্ণ। রুনি বলেন, “রোনালদোকে নিয়ে আমার মনে শুধু একটা প্রশ্ন—কেন? যেদিন (লিওনেল) মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে বিদায় নিচ্ছিল, সেদিন পর্তুগাল দল থেকে এভাবে বেরিয়ে আসা, এরপর ওই বিবৃতি দেওয়া—সব দিক থেকেই ভুল।”