পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জ জেসুস তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দলে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি রোনালদোকেই নিতে হবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। সম্প্রতি নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে বেঞ্চে বসে থাকার পর ডেনমার্কের বিপক্ষেও একাদশে সুযোগ না পাওয়ার কথা জানতে পেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছিলেন রোনালদো।
গতকাল রাতে নরওয়েকে ২–১ গোলে পরাজিত করে উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনা নিয়ে কথা বলেন জেসুস। আল নাসরে রোনালদোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা এই কোচ বলেন, ‘সে চাইলে জাতীয় দলে ফিরবে। পরেরবার দল ঘোষণার আগে আমরা কথা বলতে পারি। তবে সিদ্ধান্তটা ক্রিসকেই নিতে হবে।’
পর্তুগাল দলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক কর্মসূচি রয়েছে নভেম্বরে। সেই সময়ে ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে মাঠে নামবে দলটি।
জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের সমাপ্তি কীভাবে হবে, সেই বিষয়েও রোনালদোর ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেসুস। তাঁর মতে, ‘ক্রিস্টিয়ানোর জাতীয় দলের সময়টা সে যেভাবে চায়, সেভাবেই শেষ করা উচিত। সে কীভাবে শেষ করতে চায়, সেই সিদ্ধান্তও তার।’
পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই কিংবদন্তিকে পর্তুগালের জন্য কতটা অপরিহার্য, তা পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছেন কোচ। জেসুস বলেন, ‘প্রথমবার দল ঘোষণার সময় আমি বলেছিলাম, “আমার তোমাকে দরকার, আমার তোমাকে দরকার। তুমি খেলো বা না খেলো, তোমাকে আমার কাছে থাকতে হবে।” এখনো আমি একই কথা বলছি।’
আল নাসরে এক বছর রোনালদোর সঙ্গে কাজ করার পর ২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেসুস। বর্তমান ফিফা উইন্ডোর মাধ্যমেই শুরু হয়েছে তাঁদের দুজনের নতুন এক অধ্যায়। ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে রোনালদো একাদশে থাকলেও নরওয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে বসানো হয়।
ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে তাঁকে ওয়ার্মআপ করানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। ২০০৮ সালের পর এই প্রথমবার কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে স্কোয়াডে থেকেও পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকার অভিজ্ঞতা হয় রোনালদোর।
এরপর কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও রোনালদোকে শুরুতে নামানো হবে না—জেসুস সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানানোর পরপরই ক্যাম্প ত্যাগ করেন ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো লিখে জানান, জাতীয় দল ছাড়ার প্রকৃত কারণ তিনি ‘সময়মতো’ পর্তুগালের মানুষের কাছে প্রকাশ করবেন।
রোনালদোর অনুপস্থিতিতে দলের আক্রমণভাগে নিজের জায়গা মজবুত করেছেন গনসালো রামোস। এসি মিলানের এই স্ট্রাইকার রোনালদোর অনুপস্থিতিতে তিনটি ম্যাচে শুরুর একাদশে থেকে প্রতিটিতেই গোল করেছেন।
নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর পর্তুগালের অধিনায়ক জোয়াও কানসেলো রোনালদোর বিষয়ে বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো আমাদের অধিনায়ক, পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। তাঁর সঙ্গে সবকিছু অবশ্যই ভালোভাবে শেষ হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো চারটি জয়।’
ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেসও রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে যে খেলোয়াড়ই আসুক, তাকে স্বাগত জানানো হবে। ক্রিস ফিরলে আমরা তাকে দুই হাত বাড়িয়ে গ্রহণ করব।’
পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬টি গোল করেছেন রোনালদো—জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলা এবং গোল করার ক্ষেত্রে বিশ্ব রেকর্ড তাঁর দখলে। তাঁর নেতৃত্বেই ২০১৬ সালে ইউরো কাপ এবং দুবার নেশনস লিগ জয় করেছে পর্তুগাল।