কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান পৌঁছেছে। এবার প্রথমবারের মতো প্রচলিত পথের পরিবর্তে বিকল্প রুট হিসেবে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে করে এই পারমাণবিক জ্বালানি রূপপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে ইউরেনিয়ামবাহী এই পরিবহন বহরটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ইউরেনিয়ামের এই বহর।

উল্লেখ্য যে, এবার নিয়মিত ব্যবহৃত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতুর পরিবর্তে বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বহরটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুরে পৌঁছায়। এর আগে ইউরেনিয়াম পরিবহনের ক্ষেত্রে এই নির্দিষ্ট রুটটি ব্যবহার করা হয়নি।

সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় সড়কপথে রূপপুরে এই পারমাণবিক জ্বালানি স্থানান্তর করা হয়। বহরটির নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঢাকা থেকে রূপপুর পর্যন্ত ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। নিরাপত্তাজনিত বিশেষ কারণে ওই সময়ে সড়কে সব ধরনের যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও একাধিক দফায় রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে করে ঢাকায় পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই জ্বালানিগুলো কঠোর নিরাপত্তায় সড়কপথে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। চলতি বছরের মধ্যেই রাশিয়া থেকে জ্বালানির আরও কয়েকটি চালান দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট গত অক্টোবরে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ (পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু) অর্জন করেছে। বর্তমানে ইউনিটটির ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হলে খুব শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।