পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লিপাত্রে (রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল) লোডিং করার লক্ষ্যে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম। রসাটম ফুয়েল ডিভিশনের অধীনে থাকা নভোসিবির্স্ক (নাভআসিবিরস্ক) কেমিক্যাল কনসেন্ট্রেটস প্ল্যান্টে প্রস্তুত করা এই জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালানটি সম্প্রতি একটি বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে করে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

রসাটমের পক্ষ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে রূপপুরের ইউনিট-১-এর প্রথম রিফুয়েলিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ফ্রেশ জ্বালানি সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। চুল্লিপাত্রের প্রথম জ্বালানি চক্রটি সম্পন্ন হওয়ার পর এই রিফুয়েলিং কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আসা জ্বালানির প্রথম চালানটি গত সোমবার ঢাকায় অবতরণ করে। এরপর অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার তা রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, রূপপুর সাইটে পৌঁছানোর পর জ্বালানি কনটেইনারগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল সংরক্ষণাগারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি অ্যাসেম্বলিগুলোর প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য যাচাই এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি অ্যাসেম্বলিকে বাধ্যতামূলক ভিজ্যুয়াল ও ইনস্ট্রুমেন্টাল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করে বাংলাদেশ, জেনারেল কনট্রাক্টর এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ কমিশনের মাধ্যমে এই পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

রূপপুর প্রকল্পের সূত্রমতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পারমাণবিক জ্বালানি প্রাপ্তির বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সব জ্বালানি ২০২৩ সালেই রূপপুরে এসে পৌঁছেছিল। গত মে মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিপাত্রে সেই জ্বালানি প্রবেশ করানোর কাজ সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে গত অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি রূপপুরে এসে পৌঁছায়।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কমিশনের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-কে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করছে।