রাশিয়া থেকে আসা পারমাণবিক জ্বালানির আরও একটি চালান অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তায় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে। এটি প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আসা তৃতীয় ইউরেনিয়াম চালান। আজ মঙ্গলবার সকালে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোরবেলায় রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পারমাণবিক জ্বালানিবাহী এই গাড়িবহরটি পাবনার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। যমুনা সেতু অতিক্রম করে নাটোর হয়ে কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক দিয়ে সকাল আটটার দিকে বহরটি রূপপুরে পৌঁছায়। এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি চালানের আগমনে রূপপুরে কর্মরত রুশ নাগরিকেরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

ইউরেনিয়ামের এই চালানটি প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের তৃতীয় কিস্তি। সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। আন্তর্জাতিক মান ও নীতিমালা অনুসরণ করে এই জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করা হবে।

এই বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ইউরেনিয়ামের এই চালান প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের তৃতীয় চালান। সকাল সাড়ে আটটার দিকে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পারমাণবিক জ্বালানিবাহী লরি প্রকল্প এলাকার পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক নীতিমালা মেনে এই জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হবে।”

ঢাকা থেকে পাবনা পর্যন্ত পুরো সড়কপথে গাড়িবহরটির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এই নিরাপত্তা কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো যাতে কোনো যানজট ছাড়াই নির্বিঘ্নে রূপপুরে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখিয়েছে। যানজট এড়াতে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর ও পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের ছোট-বড় যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। ইউরেনিয়াম বহনকারী বহরটি গন্তব্যে পৌঁছানোর পর পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

প্রকল্প সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালুর প্রয়োজনীয়তা মেটাতে রাশিয়া থেকে আরও আটটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি আমদানি করা হবে। এর আগে ৩ ও ২১ অক্টোবর দুটি চালান দেশে এসেছে। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে জ্বালানির বাকি চালানগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরমাণু শক্তি কমিশন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট। সব প্রস্তুতি সময়মতো সম্পন্ন হলে চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যে এই কেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।