আন্তর্জাতিক ফুটবলে একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ২৩ বছরের বর্ণাঢ্য পথচলা শেষে অবসর নিচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে পর্তুগালের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবল তারকার বিদায়টা এত সহজভাবে মেনে নিতে রাজি নয় দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

রোনালদোর অসাধারণ ক্যারিয়ারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনার পরিকল্পনা করছে তারা। এমন একটি আয়োজনের কথা ভাবছে ফেডারেশন, যেখানে সমর্থকেরা শেষবারের মতো তাঁদের প্রিয় অধিনায়ককে সরাসরি অভিবাদন জানানোর সুযোগ পাবেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রোনালদোর অবসরের ঘোষণার পর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। সেখানে রোনালদোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি তারা স্পষ্ট করেছে যে, যথাযথ সম্মাননা প্রদান না করে এই কিংবদন্তির বিদায় তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

এফপিএফ-এর ওই বিবৃতিতে রোনালদোকে কেবল একজন অসাধারণ ফুটবলার হিসেবেই নয়, বরং একজন অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা, কঠোর পরিশ্রমের অনন্য উদাহরণ এবং জাতীয় দলের চেতনার সবচেয়ে বড় প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ফেডারেশনের ভাষায়, ‘জাতীয় দলের হয়ে কিংবদন্তিতুল্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অধিনায়ক ২৩৪ ম্যাচ খেলেছেন, গোল করেছেন ১৪৬টি। দেশকে কাঁধে তুলে নিয়েছেন, ভেঙেছেন একের পর এক রেকর্ড। পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, এমন অনেক অর্জনের পথে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

ফেডারেশন আরও উল্লেখ করেছে যে, রোনালদোর প্রতিটি ঘামের বিন্দু, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গোল এবং মাঠে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডের প্রতি তাঁর সম্মান—সবকিছুই পর্তুগালের জার্সির প্রতি তাঁর নিঃশর্ত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তাদের মতে, বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের নাম উজ্জ্বল করতে রোনালদোর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

বিবৃতির সবচেয়ে আবেগঘন অংশে ফেডারেশন লিখেছে, ‘এই বিদায় যেন যথাযথ সম্মাননা ছাড়া না হয়, এটি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশাল ক্যারিয়ারের উপযুক্ত সম্মান জানাতে আমরা আয়োজন করতে চাই, পরিকল্পনা করতে চাই এবং সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে চাই। এমন একটি আয়োজন, যেখানে সমর্থকেরা ও পুরো দেশ আরেকবার সেই খেলোয়াড়কে অভিবাদন জানাতে ও উদ্‌যাপন করতে পারবে, যিনি আমাদের এত কিছু দিয়েছেন।’

বিবৃতির শেষ অংশটি ছিল অত্যন্ত আবেগপূর্ণ, যেখানে লেখা হয়েছে—‘সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ, অধিনায়ক! এই বাড়ি সব সময় তোমারই থাকবে। চলো, এক হাজারতম গোলের দিকে এগিয়ে যাই!’