নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার পর খুব দ্রুতই যেন সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেল। ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগ করার কারণে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছিল পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। তবে এই নিষেধাজ্ঞা ঠিক কতদিনের জন্য কিংবা কতটি ম্যাচের জন্য কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কমিটি এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

কিন্তু নিষেধাজ্ঞার খবর ছড়িয়ে পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিন্ন এক বার্তা সামনে এসেছে। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সা জানিয়েছেন, তিনি নভেম্বরেই রোনালদোকে পুনরায় জাতীয় দলে দেখতে চান। তাঁর মতে, ফেডারেশনের প্রায় সবাই চান অধিনায়ক যেন দ্রুত দলের সাথে পুনরায় যোগ দেন।

শনিবার এএফ পোর্তোর নতুন মাঠের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রোয়েন্সা বলেন, “আমরা সবাই অধিনায়ককে ফিরে পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। নিয়ম অনুযায়ী শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চলবে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে।”

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও দে নোতিসিয়াসের একটি প্রতিবেদনে প্রোয়েন্সাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “এই মুহূর্তে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দ্রুত অধিনায়ককে দলে ফিরে পেতে চাওয়া—জাতীয় দলের কোচও যা জানিয়েছেন। আমরা সবাই, কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই, নভেম্বরে আবার একসঙ্গে হতে চাই।”

বিশ্বকাপ পরবর্তী প্রথম ফিফা উইন্ডো ছিল সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে। দুই সপ্তাহের এই বিরতিতে পর্তুগাল দল উয়েফা নেশনস লিগের মোট চারটি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে বসে থাকার পর, ডেনমার্কের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচের আগে দল ছেড়ে চলে যান রোনালদো।

পরবর্তীতে রোনালদো জানান, কোচ জর্জ জেসুস তাঁকে দেওয়া দুটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিলেন। তবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় তিনি নিজের শাস্তিও প্রাপ্য বলে স্বীকার করে নিয়েছেন।

সাধারণত ফিফা উইন্ডোতেই জাতীয় দলগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে থাকে। চলতি বছরের নভেম্বরে দুটি এবং ডিসেম্বরে আরও দুটি ম্যাচের উইন্ডো রয়েছে। যদি রোনালদো নভেম্বরেই দলে ফেরেন, তবে কার্যত কোনো ম্যাচ-নিষেধাজ্ঞা তাঁকে কাটাতে হবে না। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এফপিএফের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল।