নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের কথা জানতে পেরে এক অভিনব কৌশলে প্রেমিককে ধরে ফেললেন স্বামী। স্ত্রীর ব্যবহৃত স্মার্টফোন ব্যবহার করে মেসেজে কথা বলে ওই যুবককে নির্জন স্থানে ডেকে এনে তাকে আটক করেন তিনি। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আটক যুবককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ নভেম্বর) মধ্যরাতে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের ঘাটপাড়া এলাকা থেকে মো. মাসুদ রানা (২৮) নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। আটক মাসুদ রানা ডোমার সদর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ডোমার সদর ইউনিয়নের চিকনমাটি দোলাপাড়া এলাকার মো. খোকার ছেলে এবং পেশায় ট্রাক্টরচালক মাসুদ রানার সঙ্গে বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের ঘাটপাড়া এলাকার এক গৃহবধূর দীর্ঘ ছয় মাস ধরে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই গৃহবধূর স্বামী স্ত্রীর স্মার্টফোনটি নিজের অধিকারে নেন। এরপর তিনি নিজেই ওই মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করে প্রেমিকের সঙ্গে মেসেজে চ্যাট শুরু করেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে গভীর রাতে বাড়ির পাশের একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে দেখা করার প্রস্তাব দেন তিনি।

মাসুদ রানা ওই মেসেজগুলো তার প্রেমিকার কথা ভেবে বিশ্বাস করেন এবং বাজার থেকে মিষ্টি কিনে নিয়ে বাঁশঝাড়ে পৌঁছান। সেখানে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা স্বামীর জালে তিনি ধরা পড়েন। এরপর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন এবং পুলিশ এসে তাকে নিয়ে যায়।

তবে এই পুরো ঘটনায় গৃহবধূর দাবি ভিন্ন। তিনি জানান, মাসুদের সঙ্গে তার গত ছয় মাস ধরে যোগাযোগ থাকলেও তারা কোনো অনৈতিক সম্পর্কে জড়াননি। তার অভিযোগ, আজ তার স্বামী কৌশলে মাসুদকে ডেকে এনেছেন।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাসুদ প্রায়ই ওই এলাকায় যাতায়াত করতেন। আগে তার এই আসা-যাওয়ার বিষয়ে কারো মনে সন্দেহ না থাকলেও আজকের ঘটনার পর তার প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গেছে বলে তারা মনে করেন।

এই ঘটনার বিষয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম সরকার জানান, “এ ঘটনায় মাসুদকে মধ্যরাতে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।” পুলিশ আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।