নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে চুরি ও লুটের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জামাইসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার হাজীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এজাজুল ইসলামের পুত্র মো. আজিম (২৬) এবং তফিজ উদ্দিনের পুত্র তহিদুল ইসলাম (২৮)।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ডোমার উপজেলার জামিরবাড়ি হুজুরপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেখা বেগম (৪৫), যিনি আজিমের শাশুড়ি, একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২ এপ্রিল রাতে আজিম তার শ্বশুরবাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, রেখা বেগম রাতের খাবার খেয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে আজিম ও তার সহযোগী তহিদুল ঘরের ট্রাঙ্ক ভেঙে টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর গত ৩ এপ্রিল ডোমার থানায় অজ্ঞাতনামিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বাদী রেখা বেগম। পরবর্তীতে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির বিশেষ সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানের মাধ্যমে আজিম ও তহিদুলকে তাদের নিজ নিজ বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডোমার থানা-পুলিশ।
মামলার বাদী রেখা বেগম বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, “ঘটনার দিন আজিম ও তার এক বন্ধু তাদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে আসেন। তারা খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেন। পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে তারা ঘরের ট্রাঙ্ক ভেঙে টাকা-পয়সা নিয়ে যান। এরপর থেকে তারা পলাতক ছিলেন।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডোমার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আঙ্গুর ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার রাতে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।