‘আগে মামলা শেষ করো, তারপর জমিতে দখলে আসো’—এমন স্লোগানের মধ্য দিয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জমির মালিকেরা। নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় অত্যন্ত কম হওয়ায় তারা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে এক মানববন্ধনের মাধ্যমে জমির মালিকেরা তাদের দাবিগুলো উত্থাপন করেন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী মূল্য পুনর্নির্ধারণ এবং চলমান মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রি না করা।
জানা গেছে, ঢাকা অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন জোন ট্রান্সমিশন গ্রিড এক্সপ্যানশন প্রকল্পের অধীনে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় একটি ১৩২/৩৩ কেভি জিআইএস গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য ডোমার পৌরসভার ডোমার-দেবীগঞ্জ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত জমিগুলো অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় জমির মালিকদের দাবি, ওই এলাকার জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি শতকে দুই লাখ টাকা বা তারও বেশি। তবে কর্তৃপক্ষ প্রতি শতকে মাত্র ১২ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেছে, যা মালিকদের কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
ভুক্তভোগী জমির মালিক আব্দুল মজিদ জানান, এর আগে জেলা প্রশাসক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, সেই বৈঠকে অন্যান্য স্টেশনের জন্য কেনা জমির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ডিসি স্যার আমাদের জমির দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন দেওয়া হচ্ছে শতকপ্রতি ১২ হাজার টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব? ডিসি স্যার যে দাম বলেছিলেন, সেটিও আমাদের জমির দামের চেয়ে কম। তারপরও আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। প্রয়োজনে জান দেব, তবুও জমি দেব।”
আরেকজন জমির মালিক রুপালী বেগম তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সংসারে যতটুকু জমি আছে, তার বেশির ভাগই এখানে। বর্তমানে এসব জমি বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর অর্ধেক দাম পেলেও আমাদের সমস্যা হতো না। কিন্তু যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাজারদরের চার ভাগের এক ভাগও নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কৃষক মানুষ। এখানে জমি বিক্রি করে অন্য জায়গায় জমি কিনে চাষাবাদ করে চলব। কিন্তু জমির ন্যায্য দাম না পেলে অন্য জায়গায় জমি কিনব কীভাবে? আর চাষাবাদ করেই বা কীভাবে সংসার চালাব?”
জমির মালিক রবিউল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অন্যান্য স্টেশনের জন্য কেনা জমির সর্বনিম্ন দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই জমিগুলো বিদ্যুৎ কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রবিউল ইসলামের দাবি, জমির ন্যায্য মূল্য প্রদান করে এবং মামলা নিষ্পত্তি করার পরেই কেবল জমি রেজিস্ট্রি করা হোক।
এই পুরো পরিস্থিতি ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী জানান, ভুক্তভোগীরা এখন পর্যন্ত তার কাছে এসে কোনো অভিযোগ জানাননি।