পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি এবং শিল্পাঞ্চলগুলোতে বিরাজমান অস্থিরতার দ্রুত সমাধানের জন্য সরকার ও মালিকপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে যত বিলম্ব হবে, শিল্প খাতের সামগ্রিক ক্ষতি তত বাড়বে।

আজ বুধবার এক ভিডিও বার্তায় শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অস্থিরতার কারণে অনেক শিল্পকারখানা বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া দু–এক জায়গায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানান।

গাজীপুরের শ্রীপুরে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।”

দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাত। এ খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতির কারণে স্বল্প বেতনে শ্রমিকদের জীবনধারণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তাঁদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বেতনকাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন ছিল।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘শিল্প বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এটাও ঠিক যে শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে।’ তিনি আরও বলেন, ক্ষতি আর না বাড়িয়ে, অস্থিরতা তৈরির সুযোগ আর না দিয়ে অতি দ্রুত সরকারকে কর্তব্য পালনের আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া যত বিলম্বিত হবে, ক্ষতি ততই বৃদ্ধি পাবে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে অনেক সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি বিভিন্নভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই এই বিষয়ে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সতর্কতার পরিচয় দিতে হবে।

সবশেষে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, নিজেদের প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখতে হবে। জামায়াত তাঁদের ন্যায্য অধিকারের পক্ষে আছে। অন্যদিকে, শ্রমিকদের পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করে মানবিক সিদ্ধান্ত নিতে মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।