দেশের ৫৫ শতাংশ কর্মী বর্তমানে তাদের দৈনন্দিন পেশাগত কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করছেন। এই প্রযুক্তির ব্যবহারকারী কর্মীদের মধ্যে ৯১ শতাংশই মনে করেন যে, এআই কাজের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে কর্মক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা এখনো পিছিয়ে রয়েছেন।

মেটলাইফ বাংলাদেশের পরিচালিত ‘এমপ্লয়ি বেনিফিটস ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো উঠে এসেছে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত মেটলাইফ বাংলাদেশের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে মেটলাইফ বাংলাদেশের হেড অব মার্কেটিং অ্যান্ড প্রোডাক্ট নওফেল আনোয়ার এবং হেড অব কমিউনিকেশনস সাইফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণার তথ্যানুসারে, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার কাজের চাপ কমাতে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে, মানসিক ক্লান্তি দূর করতে এবং আরও অর্থবহ কাজে মনোযোগ দিতে সহায়তা করে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন; মাত্র ৫৮ শতাংশ নিয়োগদাতা কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারে উৎসাহ দিয়েছেন অথবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। এমনকি এই স্বল্পসংখ্যক নিয়োগদাতাদের মধ্যে মাত্র ৩৭ শতাংশ মনে করেন যে, কর্মীরা খুব সহজেই এআই গ্রহণ করছেন।

আর্থিক উদ্বেগের বিষয়টি কর্মীদের উৎপাদনশীলতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণে ৫৬ শতাংশ কর্মীর উৎপাদনশীলতা কমে গিয়েছিল, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশে। কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তার দায়িত্ব যে নিয়োগদাতাদেরও রয়েছে, এমনটি মনে করেন ৮১ শতাংশ কর্মী, যেখানে ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৬৯ শতাংশ। এছাড়া, অবসরজীবনের জন্য সঞ্চয়ে সহায়তা করা নিয়োগদাতাদের দায়িত্ব বলে মনে করেন ৮৬ শতাংশ কর্মী; ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৬৭ শতাংশ।

বড় ধরনের কোনো অপ্রত্যাশিত আর্থিক সংকট বা জরুরি খরচের সময়ে ৭২ শতাংশ কর্মী তাদের নিয়োগদাতার সহায়তা প্রত্যাশা করেন। তবে আশার কথা এই যে, চাকরি নিয়ে কর্মীদের সামগ্রিক সন্তুষ্টির হার ২০২৫ সালের ৭৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬ সালে ৮৩ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি কর্মী এবং তাদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষায় বীমাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে।

২০২৬ সালের গবেষণায় ৭৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, বীমা ও সুস্থতাসংক্রান্ত সুবিধা পেলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের আনুগত্য বাড়বে। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ। অবসরজীবনের প্রস্তুতি নিয়েও কর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা গেছে। ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের মধ্যে যাদের অবসরজীবনের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই, তাদের হার ২০২৫ সালের ৫৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৮১ শতাংশ হয়েছে। এই বিষয়ে সঞ্চয় এবং সঞ্চিত অর্থ থেকে নিয়মিত আয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কর্মীরা নিয়োগদাতাদের সক্রিয় সহায়তা চান।

নিজের প্রয়োজন এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে মানানসই সুযোগ-সুবিধা পেতে আগ্রহী কর্মীদের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে বেড়ে হয়েছে ৮৬ শতাংশ। অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ৮৫ শতাংশ নিয়োগদাতা, যেখানে ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ। গত এক বছরে প্রায় অর্ধেক নিয়োগদাতা কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা খাতে তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছেন।