যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এখন শুরু হয়েছে ফলাফল গণনার কাজ। দেশটির ভৌগোলিক বিস্তৃতির কারণে সব অঙ্গরাজ্যের ভোটকেন্দ্রগুলো একই সময়ে বন্ধ হয় না; বরং স্থানীয় সময় অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।

চলতি নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসনের পাশাপাশি সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মোট ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা মূলত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের এই আসনগুলোর চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষই রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা চেষ্টা করছেন অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিতে।

ভোট গণনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরপরই প্রাথমিক কিছু ফলাফল সামনে আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও এবং টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এসব এলাকায় প্রার্থীদের মধ্যে লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে ভোট গণনা শুরু হলেই যে সব আসনের ফলাফল দ্রুত জানা যাবে, তেমনটি নয়। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনার পদ্ধতি এবং এর গতি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। কোনো কোনো জায়গায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়ে যায়। আবার কিছু অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে পাঠানো ভোট এবং আগাম ভোটের ব্যালটগুলো গণনা করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে চূড়ান্ত ফলাফল জানতে দেরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া যখন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান খুব কাছাকাছি থাকে, তখন কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করতে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হয়। এই সব কারণে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

তথ্যসূত্র: এপি