লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ককটেল বিস্ফোরণ ও ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে আহত করার ঘটনায় সুজন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, এক লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি এই হামলা চালাতে এসেছেন।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে উপজেলার ২ নম্বর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে। ককটেল বিস্ফোরণ এবং ছুরিকাঘাতের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, রাতের অন্ধকারে খাসেরহাট বাজারে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং বেশ কয়েকজনের ওপর ছুরিকাঘাত করা হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে বাজার ও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন সুজন নামের এক ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন এবং তাকে মারধর করেন। এই হামলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত বিএনপি নেতা এবাদুল্লাহ গাজীসহ তিনজনকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে জাহিদ নামের একজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অপর একজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
আটককৃত ব্যক্তির বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, এক লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি এই হামলা করতে এসেছেন। তার এই স্বীকারোক্তির ভিডিও স্থানীয় কয়েকজনের মুঠোফোনে ধারণ করা হয়েছে। তবে তাকে এই অর্থ দিয়ে কে পাঠিয়েছেন, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী কারা এবং এই ঘটনার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে খাসেরহাট বাজারে দুই-তিনজনকে ছুরিকাঘাত এবং একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ককটেল বিস্ফোরণের পর উত্তেজিত জনতা একজনকে আটক করে রাখেন। পরে পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আটক ব্যক্তির নাম সুজন এবং তার বাড়ি ভোলা জেলায়।
ওসি আরও জানান, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তির বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।