চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় লক্ষ্মীপুর জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে রায়পুর উপজেলার প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী কলেজ। এই বছর প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৯২ শতাংশে। পাসের হার এবং মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যার আনুপাতিক বিবেচনায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় কলেজগুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি।
কলেজ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী কলেজ থেকে মোট ৩৭২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের মধ্যে ৩৬৮ জন শিক্ষার্থী সফলভাবে পাস করেছে। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ২৪ জন শিক্ষার্থী; যার মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৮ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৩ জন সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েছে। এছাড়া এ গ্রেড পেয়েছে ১৮৬ জন, এ মাইনাস পেয়েছে ১১৮ জন, বি গ্রেড পেয়েছে ৩৭ জন এবং সি গ্রেড পেয়েছে ৩ জন শিক্ষার্থী।
প্রতিষ্ঠানের এই সাফল্য সম্পর্কে কলেজটির অধ্যক্ষ বলেন, “আমাদের ৩৭২ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৩৬৮ জন কৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। পাসের হার ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সেরা কলেজগুলোর মধ্যে আমাদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলাতেও আমরা প্রথম হয়েছি। বোর্ডে কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে মাত্র একজন বা দুজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাস করায় তাদের পাসের হার শতভাগ হয়েছে। তবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও পাসের সংখ্যার বিবেচনায় আমাদের ফলাফল উল্লেখযোগ্য।”
কলেজ কর্তৃপক্ষ আরও উল্লেখ করেছে যে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে খুব অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং সবাই পাস করায় তাদের পাসের হার শতভাগ দেখানো হয়েছে। তবে পরীক্ষার্থীর মোট সংখ্যা এবং উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার সঠিক সমন্বয়ে প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী কলেজ বোর্ডের সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাতারে অবস্থান করছে। একই সাথে লক্ষ্মীপুর জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে, জেলার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ১২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে ৮৬৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ জন শিক্ষার্থী।
আবার লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৮ দশমিক ৮৯ শতাংশে। ওই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬৪ জন।