গত মাসেই আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচটি খেলেছেন ফুটবল মহিমা লিওনেল মেসি। এখন শুরু হচ্ছে মেসি-উত্তর যুগের যাত্রা। আগামী নভেম্বরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে আলবিসেলেস্তে। এই উইন্ডোতে আগামী ১৩ নভেম্বর উরুগুয়ে এবং ১৭ নভেম্বর কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে আর্জেন্টিনার। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জন্য আজ ২৮ সদস্যের একটি দল ঘোষণা করেছেন জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি।
গত আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো এবং বেনিনের মতো তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে এবারের উইন্ডোর ম্যাচ দুটিকে সেই তুলনায় অনেক বেশি ‘কঠিন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ থাকায় ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেরই ধারণা ছিল, কোচ স্কালোনি হয়তো তাঁর পুরনো ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপরই ভরসা রাখবেন। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে জাতীয় দলে আমূল পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি। এই নতুন স্কোয়াডে জায়গা পাননি বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট তারকা।
লিওনেল মেসির প্রস্থান তো ছিলই, তবে স্কালোনির এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে রদ্রিগো দি পল, জোভান্নি লো সেলসো এবং নিকো গঞ্জালেসের বাদ পড়াকে। দীর্ঘ সময় ধরে মেসি ও স্কালোনির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনার জয়যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন এই তিন ফুটবলার। তবে লো সেলসো এবং গঞ্জালেসদের পারফরম্যান্স নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। অন্যদিকে, ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে রদ্রিগো দি পলের মাঠের ফর্ম তলানিতে ঠেকেছে, যা তাঁর বাদ পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকতে হচ্ছে লাওতারো মার্তিনেজকে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার লড়াইয়ে ব্যস্ত আছেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও। পাশাপাশি, নিষেধাজ্ঞার কারণে এই উইন্ডোতে দলের সঙ্গে থাকতে পারছেন না লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনা।
অভিজ্ঞ ও চেনা মুখগুলোর এই অনুপস্থিতি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের ডাক পেয়েছেন তরুণ সেন্টার-ব্যাক অ্যারন আনসেলমিনো। এছাড়া নিকো পাজ, মাতিয়াস সুলে, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো এবং ভালেন্তিন বার্কোদের মতো উদীয়মান তরুণ তুর্কিদের সামনে এখন নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ করার বড় সুযোগ।
ঘোষিত ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (চেলসি), হেরেনিমো রুলি (ম্যানচেস্টার সিটি), হুয়ান মুসো (আতলেতিকো মাদ্রিদ), সান্তিয়াগো বেলত্রান (রিভার প্লেট)।
ডিফেন্ডার: গঞ্জালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট), অগাস্টিন জিয়াই (পালমেইরাস), অ্যারন আনসেলমিনো (চেলসি), মারিয়ানো ত্রোইলো (পার্মা), লিওনার্দো বালের্দি (রোমা), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ফাকুন্দো মেদিনা (বায়ার লেভারকুসেন), নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), রোমান ভেগা (জেনিত)।
মিডফিল্ডার: এজেকিয়েল ফার্নান্দেজ (বায়ার লেভারকুসেন), মাক্সিমো পেরোনে (কোমো ), এজেকিয়েল পালাসিওস (ইপসউইচ টাউন), ভালেন্তিন বার্কো (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), এনজো ফার্নান্দেজ (ম্যানচেস্টার সিটি), নিকোলাস পাজ (কোমো)।
ফরোয়ার্ড: মাতিয়াস সুলে (রোমা), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো (ফিওরেন্তিনা), জুলিয়ানো সিমিওনে (আতলেতিকো মাদ্রিদ), জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি (বেনফিকা), থিয়াগো আলমাদা (রিভারপ্লেট), হোসে মানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস), সান্তিয়াগো কাস্ত্রো (রোমা), হুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ)।