সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সরাসরি এবং ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী মোট ১৭১টি ফ্লাইটের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে প্রায় ২৩ হাজার ৭৭ জন যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই দুঃসংবাদটি নিশ্চিত করেছে।

বেবিচকের দেওয়া তথ্যানুসারে, যেসব ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে তার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ছিল ৯৪টি। এই তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪৫টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি, রিয়াদ এয়ারের ১৮টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ৭৭টি ফ্লাইটের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।

জানা গেছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে ফ্লাইট পরিচালনায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রভাবে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সরাসরি সংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে চলাচলকারী ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এই সংকটের কবলে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসও। তাদের ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলোর চলাচল ব্যাহত হয়েছে। তবে একটি আশার কথা জানিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা–দাম্মাম–ঢাকা রুটে পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত প্রতিদিন দিনের বেলায় এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। তবে ঢাকা–রিয়াদ–ঢাকা রুটের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে; পর্যাপ্ত যাত্রী চাহিদার অভাব থাকায় এই রুটের ফ্লাইটগুলো পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এই সিদ্ধান্তগুলো জানিয়েছে।

টিকিট পরিবর্তন বা ভ্রমণ সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্যের জন্য যাত্রীদের নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।