সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের মোট ১৩৫টি ফ্লাইট বাতিল অথবা স্থগিত করা হয়েছে। এই আকস্মিক পরিস্থিতির কারণে ২০ হাজার ৬৭২ জন যাত্রী চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন। স্থগিত ও বাতিল হওয়া এই ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি রুটের ফ্লাইট ছিল ৬২টি এবং ট্রানজিট রুটের ফ্লাইট ছিল ৭৩টি।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। বেবিচকের দেওয়া তথ্যানুসারে, সরাসরি রুটে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের তালিকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট রুটের ক্ষেত্রে ইন্ডিগোর ২৮টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে বিমানবন্দরগুলো পুনরায় সচল হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনেক বিমান পরিবহন সংস্থা এখনো সেখানে ফ্লাইট পরিচালনা থেকে বিরত রয়েছে।
এরই মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ৩৭৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। তবে গত রাতে দাম্মাম বিমানবন্দরে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এই নতুন হামলার ফলে দাম্মাম বিমানবন্দরের ফ্লাইট কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালু থাকবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে আজ রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ বৈঠক করছে।