সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে সাতটি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেবিচকের এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে যাত্রীদের দ্রুত অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি পুনরায় টিকিট বুকিং, অর্থ ফেরত প্রদান এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) জারি করা এক নির্দেশনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেবিচক সূত্রে এই তথ্যের কথা জানা যায়।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, "সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিরাজমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবগামী সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনাকারী সব এয়ারলাইনসকে যাত্রীসেবা ও কার্যক্রম সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।"

যাত্রীদের আগাম তথ্য প্রদানের বিষয়ে বেবিচক স্পষ্ট করেছে যে, ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব কিংবা সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের দ্রুত জানাতে হবে। এই উদ্দেশ্যে এসএমএস, ফোনকল, ইমেইল, এয়ারলাইনসের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের সহজলভ্য মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে।

একই সঙ্গে ফ্লাইটের সংশোধিত সময়সূচি, পুনরায় টিকিট বুকিং, অর্থ ফেরত এবং প্রযোজ্য অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে যাত্রীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ফ্লাইটের অবস্থা নিশ্চিত না করে যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসতে বলা যাবে না।

ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি ও আটকে পড়া যাত্রীদের সেবার বিষয়ে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থান বা প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসকে যাত্রীদের সৌদি কর্তৃপক্ষ, ঢাকায় অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিতে হবে।

এছাড়া পরিস্থিতির কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে যারা আটকে পড়েছেন বা ফ্লাইটের বিঘ্ন সম্পর্কে অবগত নন, তাদের যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের জন্য বসার ব্যবস্থা, পানীয় জল, হালকা খাবার এবং অন্যান্য মৌলিক সেবা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এয়ারলাইনসগুলোর জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসকে পর্যাপ্ত জনবলসহ একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ফোকাল পয়েন্ট অবিলম্বে নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। ওই কর্মকর্তার নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা দ্রুত শাহজালাল বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগকে জানাতে হবে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের আওতায় থেকে যাত্রীদের সহায়তা করতে হবে, ফ্লাইটের হালনাগাদ তথ্য প্রদান করতে হবে এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যক্রম সমন্বয় করতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো যাত্রীকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না, তাদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে এবং সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে এই নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর করে শাহজালাল বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

এই নির্দেশনার অনুলিপি বেবিচকের চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং এয়ার অ্যারাবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিরা। এই ভয়াবহ হামলায় বগুড়ার শাহজানপুরের মো. শাহেদ আহমেদ ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বদরপুরী নামের দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ২৭ বাংলাদেশিসহ মোট ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। আহত বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।