জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, পাবনা জেলায় বর্তমানে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সারের ডিলার নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট দল এককভাবে প্রভাব বিস্তার করছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, অযোগ্য দলীয় ব্যক্তিদের সারের ডিলারশিপ প্রদান করা হয়েছে এবং দলীয় নেতাকর্মীরাই ফ্যামিলি কার্ড লাভ করছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা আরেকটি স্বৈরাচারের কবলে পড়েছি। এই সরকারকে আমরা পাঁচবছর থাকতে দেব না।”

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনায় এনসিপির সাংগঠনিক অঞ্চল সভা উপলক্ষে আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে তার পরিকল্পনা ব্যক্ত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা স্থানীয় নির্বাচনে শক্তিশালীভাবে অংশ নিতে চাই। জাতীয় নির্বাচনে যেভাবে ভোট কারচুপি হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে তা হতে দেব না। প্রতিটি ইউনিয়নে এনসিপি সমর্থিত প্রার্থী থাকবে। স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ করব, জনগণ কাদের পক্ষে রয়েছে।”

পাবনার বর্তমান উন্নয়ন পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, এই জেলায় উন্নত অবকাঠামোর অভাব রয়েছে এবং প্রধান সড়কগুলো অত্যন্ত ভাঙাচোরা অবস্থায় আছে। অথচ উন্নয়নের পরিবর্তে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ প্রক্রিয়া চলছে। তিনি প্রশাসনের আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন যে, পুলিশ বিভাগকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে।

বিএনপির রাজনৈতিক চরিত্রের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিএনপির প্রকৃত চরিত্র জনগণ আগেই দেখেছে। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের দুর্নীতি ও লুটপাটের বিকল্প হিসেবে বিএনপি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির ডাকে গত ১৬ বছরেও মানুষ সাড়া দেয়নি। এখন বিএনপি ক্ষমতায় এসে একই ধরনের আচরণ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বাকস্বাধীনতা ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, “কথা বলার অধিকার নেই। ফেসবুকে লেখালেখি করলে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হচ্ছে। হ্যাঁ-ভোটের সঙ্গে বিএনপি প্রতারণা করেছে, জুলাই সনদের সঙ্গেও প্রতারণা করছে। এই সরকার জাতীয় প্রতারণার সরকার।”

সরকারের ব্যর্থতা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এক বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কিছুই করা হয়নি। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, গত আট মাসের দুর্নীতি, লুটপাট ও নির্যাতনের চিত্র এখন জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আওয়ামী লীগের লোকজনকে বিএনপি প্রশ্রয় দিচ্ছে। এমনকি জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার উদ্দেশ্যে যারা ঘুরে বেড়াচ্ছে, সরকার তাদেরও আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “যদি সরকার পরিচালনা করতে না পারেন, তাহলে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। জনগণ ঠিক করবে কারা দেশ চালাবে। আমাদের নতুন ইতিহাস তৈরি করতে হবে। আমাদের যে শক্তি আছে, তা নিয়েই এই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।”

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির পাবনা আহ্বায়ক আখতার হোসেন লেবুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব বরকতুল্লাহ ফাহাদের সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম সদস্যসচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তির আহ্বায়ক মাহিন সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।