পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে লক্ষ্য করে দেওয়া একটি বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট এবং মানহানিকর বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। উক্ত নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহদপ্তর সম্পাদক এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান মিশন ভূঁইয়ার পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইয়াছিন আরাফাত (সম্রাট) এই আইনি নোটিশটি প্রেরণ করেন।

নোটিশের বিবরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার একটি জনসভায় বক্তব্য প্রদানের সময় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে উদ্দেশ্য করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেন। ওই বক্তব্যের একটি অংশে তাকে বলতে শোনা যায়, “এই যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আছে... জায়গায় এ্যানি চৌধুরীর ফোন কল যায় না, যে আমারে টাকা পাঠায়।”

আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, উক্ত বক্তব্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত ৩০ অক্টোবর ‘চ্যানেল ২৪’সহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বক্তব্যটি প্রচারিত হয়। এর ফলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সামাজিক সম্মানের চরম ক্ষতি হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে আরও বলা হয়, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এবং একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য করা ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় বর্ণিত মানহানির অপরাধের আওতায় পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে।

নোটিশ প্রাপ্তির পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করার পাশাপাশি মন্ত্রীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই দাবি পূরণ করা না হয়, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।