পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আশা প্রকাশ করেছেন যে, দেশের মানুষকে আর রাজনৈতিক যুদ্ধে জড়াতে হবে না। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক সংঘাতের দিন শেষ করে এখন জীবনযুদ্ধের পথে এগিয়ে যেতে হবে। জীবনযুদ্ধের মাধ্যমেই বাংলাদেশে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে সম্মানের সাথে সবাই মিলেমিশে থাকার অঙ্গীকার করার কথা বলেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার শাঁখারীপাড়ায় অবস্থিত ত্রিনয়নী পৌর মহাশ্মশান ঘাটে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬-এর শুভ সূচনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির capacity-তে বক্তব্য দেওয়ার সময় মন্ত্রী এসব কথা উল্লেখ করেন।
বিরোধী দলের ভূমিকা ও দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, “সরকারি দলের যেমন নৈতিক দায়িত্ব ও অঙ্গীকার আছে, বিরোধী দলেরও তেমন দায়িত্ব ও অঙ্গীকার রয়েছে। যেদিন আমরা শপথ নিয়েছি, দায়িত্ব নিয়েছি, সেদিন থেকে এখন পর্যন্ত বিরোধী দল কতটুকু দায়িত্ব পালন করছে, সেটাও বিবেচনার দাবি রাখে। তাহলে আজকে কেন লংমার্চ দিতে হবে, কেন রোডমার্চ করতে হবে?”
অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “একসময় ১৭১ দিন, ৭২ দিন, ৭৩ দিন হরতাল হয়েছে। হরতাল-অবরোধ করে শান্তিতে থাকতে না দেওয়া এবং দেশ অচল করে দেওয়ার কথা যারা বলত, আজকের বিরোধী দল তাদেরই সঙ্গী। ঘুরেফিরে একই।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এ্যানি বলেন, “এজন্য আমাদের খুব সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক যুদ্ধ যেন আর করতে না হয়, সেই চেষ্টা করতে হবে। আমরা যেন জীবনযুদ্ধের মাধ্যমে শান্তি, সম্প্রীতি ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারি।”
শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ত্রিনয়নী পূজামণ্ডপের আয়োজকেরা তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং এই আমন্ত্রণে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি আরও জানান, পূজার অন্যান্য দিনগুলোতেও লক্ষ্মীপুর পৌরসভা ও মান্দারী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের চেষ্টা করবেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “আমরা সরকারি দলে থাকলেও আপনাদের পাশে ছিলাম, বিরোধী দলে অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও আপনাদের পাশে ছিলাম। কখনো পিছপা হইনি।”