ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক ভয়াবহ লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া বাসের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত। যে মহাসড়কের ওপর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন, সেখানেই সম্পন্ন হয়েছে তাঁর জানাজা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের মহাসড়কে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মাইশার সহপাঠী, শিক্ষক এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে তাঁর শেষ বিদায় জানানো হয়।

এর আগে, সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় ফার্মেসি বিভাগের ২১ বছর বয়সি শিক্ষার্থী মাইশার মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ৬ দফা দাবি জানিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া ও পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে দেন এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার কুমিরা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী লরি একটি বাসকে ধাক্কা দেয়। এই প্রচণ্ড ধাক্কায় বাসটি উল্টে যায় এবং মাইশাসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী বাসের নিচে চাপা পড়েন। মুমূর্ষু অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন মাইশাকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নুরুল আলম আশেক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা শিক্ষক অধ্যাপক মোস্তফা মনির চৌধুরী।

নিহত মাইশা মুশফিরাত চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মাইশার দুই সহপাঠী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তারা বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শোকপ্রকাশ করে সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। একই সময়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে মহাসড়কের ওপরই নিহত শিক্ষার্থীর জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হলে সাড়ে চার ঘণ্টা পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।