ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকার বাড়বকুণ্ড আনোয়ারা সংলগ্ন স্থানে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ে including নিহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও চারজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত দুই নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা জয়পুরহাটের বাসিন্দা রোজি আক্তার (৬০) এবং তার কন্যা নাজমা খাতুন (৪২)।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড আনোয়ারা এলাকায় একটি দ্রুতগামী মাইক্রোবাস হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি ও একটি বিলবোর্ডের খুঁটিতে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে মুহূর্তের মধ্যেই গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রোজি আক্তার ও নাজমা খাতুন।

দুর্ঘটনার পর এক বিকট শব্দ শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং বিষয়টি বার আউলিয়া হাইওয়ে থানায় অবহিত করেন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এই দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজন যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। আহতদের মধ্যে নাজমা খাতুনের স্বামী আসলাম হোসেন এবং তাদের দুই ছেলে রয়েছেন। চতুর্থ আহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনা প্রসঙ্গে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুজ্জামান জানান, “আসলাম হোসেন তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই ছেলেসহ মোট ছয়জনকে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে বান্দরবানের লামা উপজেলায় এক নিকটাত্মীয়ের কবর জিয়ারত করতে যাচ্ছিলেন। পথে বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যালয় এলাকায় পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।”

পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।