চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ২৯৩টি কলেজে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। গত বছরের তুলনায় শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর এমন কলেজের সংখ্যা ছিল ২০২টি, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৩টিতে। অর্থাৎ, গত বছরের চেয়ে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি।
শিক্ষার্থীদের এই চরম ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট এই ২৯৩টি কলেজকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে। এই নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শতভাগ ফেল করার প্রকৃত কারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শতভাগ ফেল করা কলেজগুলোর জন্য চিঠি ইস্যু চলছে। আগামীকালের মধ্যেই তাদের নোটিশ পাঠানো হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সব শিক্ষার্থী কেন ফেল করল, তা জানতে চাওয়া হবে। যদি সন্তোষজনক বা যৌক্তিক কারণ পাওয়া না যায়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তি বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন। এরপর ফেল করা শিক্ষার্থী, পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবারের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১১টি সাধারণ ও বিশেষায়িত বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এটি গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার। ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।