দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট এলাকায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মোট ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে উজ্জ্বল মিয়া (৪১) নামের যুবদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে ঘোড়াঘাট পৌর শহর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান মুক্তকণ্ঠকে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত উজ্জ্বল মিয়াকে আজ মঙ্গলবার দিনাজপুর আদালতে হাজির করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া উজ্জ্বল মিয়া ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর ছয়ঘট্টি গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর পুত্র। তিনি যুবদলের ঘোড়াঘাট উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল রাতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন উপজেলার কাশিয়াতলা শিধলগ্রামের বাসিন্দা রিফাত কবীর।

মামলার এজাহার এবং বাদী রিফাত কবীরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে রিফাত কবীর উপজেলার সাগরপুর মৌজায় অবস্থিত তাঁর ৫৭ শতাংশ জমি উজ্জ্বল মিয়ার কাছে ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রয় করেন। জমি বিক্রির চুক্তির পর উজ্জ্বল ১০ লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করলেও বাকি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে গড়িমসি শুরু করেন।

এরপর রিফাতের গরুর খামারের জন্য ৫০টি গরু সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলতি বছরের ৮ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অগ্রিম ৩০ লাখ টাকা এবং ঋণ হিসেবে আরও ১৮ লাখ টাকা গ্রহণ করেন উজ্জ্বল। এভাবে গরু দেওয়ার কথা বলে তিনি মোট ৪৮ লাখ টাকা নেন। তবে টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গরু সরবরাহ না করায় রিফাত তাঁর টাকা ফেরত চাইলে উজ্জ্বল যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

পরবর্তীতে ৮ জুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিশি বৈঠক হয়। সেই বিষয়ে রিফাত কবীর জানান, তখন প্রায় ৬০ লাখ টাকা পাওনার বিপরীতে উজ্জ্বল মিয়া মাত্র ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকা অল্প সময়ের মধ্যে পরিশোধ করার লিখিত অঙ্গীকার করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও উজ্জ্বল টাকা পরিশোধ করেননি। পরবর্তীতে পাওনা টাকা চাইলে তিনি আর কোনো টাকা দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। একই সঙ্গে রিফাতের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে যুবদলের দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “কেউ অপরাধ করলে তাঁকে অবশ্যই সাজার আওতায় আসতে হবে। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। উজ্জ্বল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”