নওগাঁর মান্দা উপজেলায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আট লাখ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী হিসেবে সামনে এসেছেন মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য এমদাদুল হক পিন্টু। এই প্রতারণার প্রতিকার এবং অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন তিনি। একই সাথে অভিযোগপত্রের অনুলিপি যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ জুন মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক সমিতির মুহুরি পদে চাকরির প্রলোভন দেখান উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল। এই চাকরির বিনিময়ে তিনি এমদাদুল হক পিন্টুর স্ত্রীর কাছ থেকে আট লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে চাকরি দিতে ব্যর্থ হন তিনি। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে আব্দুল জলিল নানাভাবে টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি জানতে পেরে মধ্যস্থতা করলে দুই লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে বাকি ছয় লাখ টাকা এখনো ফেরত পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী এমদাদুল হক পিন্টু।
এমদাদুল হক পিন্টু জানান, চাকরির আশায় তিনি নিজের চাষের জমি বন্ধক রেখে এবং স্ত্রীর সোনার গহনা বন্ধক রেখে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করেছিলেন। নিজ দলেরই একজন নেতার এমন প্রতারণার শিকার হয়ে তিনি এখন পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
গত ২০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও নিজ দলের নেতার কাছ থেকে এমন প্রতারণার শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এমদাদুল হক পিন্টু। তিনি আত্মসাৎ করা টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার এবং অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মান্দা উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের অংশ হিসেবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল এই মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।
এই পুরো বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু জানান, অভিযোগের অনুলিপি ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, “যুবদল সভাপতির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।”