নওগাঁর মান্দা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক আবেদনকারী। অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখার সুপারিশ করেছেন মান্দা উপজেলা বিএনপির নেতারা।

গত ২২ সেপ্টেম্বর উপজেলার কয়াপাড়া এলাকার মৃত রহিম উদ্দীনের ছেলে ও ‘সৈকত ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী সাইদুর রহমান জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি নিজেও সার ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদনকারী ছিলেন। অভিযোগের অনুলিপি কৃষিমন্ত্রী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ৩১ আগস্ট মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ১০ সেপ্টেম্বর আবেদনের শেষ সময় ছিল। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শতাধিক আবেদন জমা পড়লেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা করছেন আবেদনকারীরা। তাই শুরু থেকেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট জেলার ১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়নে ৯৯ জন সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে মান্দা উপজেলার ভারশোঁ, ভালাইন, পরানপুর, মান্দা, গণেশপুর, মৈনম, প্রসাদপুর, কুসুম্বা, তেঁতুলিয়া, নূরুল্যাবাদ, কালিকাপুর, কাঁশোপাড়া, কশব ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে একজন করে মোট ১৪ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।

অভিযোগকারী সাইদুর রহমান বলেন, "যোগ্যতা ও বিধিমালা অনুসরণ করে যেন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়, সে দাবিতেই অভিযোগ করেছি। কোনো ধরনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ থাকলে যোগ্য আবেদনকারীরা বঞ্চিত হবেন। শুরু থেকেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হবে না এবং সার কালোবাজারির সুযোগও কমবে।"

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতিন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল তদন্তের সুপারিশ দিয়েছেন। এম এ মতিন বলেন, "যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, তাই তদন্ত করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে যোগ্যদের মনোনীত করা উচিত। কোনো অনিয়মের মাধ্যমে কেউ ডিলার হয়ে কৃষকের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করুক আমরা তা চাই না। অভিযোগকারীর কাছে প্রমাণ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।"

মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন শায়লা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো স্বজনপ্রীতির অবকাশ নেই বলে দাবি করেন। তিনি জানান, তাদের মাত্র তিন দিন সময় ছিল এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আর্থিক লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উল্লেখ করে বলেন, "পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা অন্য কোনো কর্মকর্তা কী করেছেন তা না বললেও, নিজের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত।" তবে ডিসি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো চিঠিপত্র বা অভিযোগ তাদের দপ্তরে পৌঁছায়নি।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান বলেন, "নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা এখনো প্রমাণিত নয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।" সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, "অনিয়ম নিয়ে আপনারা এত ইন্টারেস্ট দেখান কেন?" পরবর্তীতে এ বিষয়ে আর ফোন না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. আতিয়া খাতুন জানান, জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন বা অভিযোগ করা হয়েছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসক তাদের কাছে পাঠিয়েছেন তদন্ত করার জন্য। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত কোনো নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি এবং তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।