নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। তবে এই গুরুতর অপরাধের বিষয়ে পুলিশ বা থানায় কোনো অভিযোগ না জানিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। সেই সালিশ বৈঠকে অভিযুক্ত যুবককে বেত্রাঘাত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম পিয়াস উদ্দিন রাকিব, তিনি স্থানীয় হোরনের বাড়ির বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী কিশোরীর প্রতিবেশী।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত রোববার (১ নভেম্বর) সকালে কিশোরীটি বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যখন সে স্কুলের পোশাক পরছিল, তখন ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা পিয়াস হঠাৎ পেছন দিক থেকে তাকে ঝাপটে ধরে এবং ধর্ষণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মাধ্যমে নিজেকে ছাড়িয়ে কিশোরীটি ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এরপর সে দ্রুত তার নানিকে পুরো বিষয়টি অবগত করে। নানি ঘরে গিয়ে অভিযুক্ত যুবককে ধরার চেষ্টা করলেও তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।
কিশোরীর নানি জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির পাশের রাস্তায় ছাগল বাঁধতে গিয়েছিলেন। এ সময় নাতনির চিৎকার শুনে তিনি দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন এবং নাতনির কাছ থেকে বিস্তারিত ঘটনাটি শোনেন।
পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে ওই দিন বিকেলে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযুক্ত যুবককে ৫০টি বেত্রাঘাত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কয়েকটি বেত্রাঘাত করার পর সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিরা তা বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত যুবককে কিশোরীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। এই সময়ে কিশোরী তাকে একটি চড় দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় অভিযুক্ত যুবক পাল্টা কিশোরীকে লাথি মারেন। এই ঘটনায় সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হলে শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি সমাপ্ত হয়।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং সেই সালিশেই অভিযুক্ত যুবককে বেত্রাঘাত করা হয়েছে।
কিশোরীর নানি আরও জানান, তার নাতনির সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের বিয়ের কথাবার্তা চলছে। উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ওই সালিশ বৈঠকে কিশোরীর জেঠা এবং তার হবু স্বামীও উপস্থিত ছিলেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তিনি শোনেননি। এ ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেননি।”