নোয়াখালীর সদর উপজেলায় এক ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে। মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল হোসেন (৪৫) নামের ওই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্ত্রী, শাশুড়ি এবং শ্যালকের বিরুদ্ধে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী তানিয়া (৪০) এবং শাশুড়ি করফুলের নেছাকে (৫৮)-কে আটক করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত শ্যালক আকাশ (২০) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তুষ্ট লাল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের মোহাম্মদিয়া নুরানী মাদ্রাসার মাঠে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।
নিহত কামাল হোসেন সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের খলিলুর রহমানের পুত্র। অন্যদিকে, তার সাবেক স্ত্রী তানিয়া সদর উপজেলার পূর্ব দুর্গানগর গ্রামের আমজাদ হাজী মসজিদ বাড়ির আমির হোসেনের কন্যা।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জুয়া খেলা নিয়ে কামাল ও তানিয়ার মধ্যে দীর্ঘ পারিবারিক কলহ ছিল। এই বিরোধের চূড়ান্ত পর্যায়ে পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তবে বিচ্ছেদের পরেও কামাল তার সাবেক স্ত্রীকে বিরক্ত করতেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি কামাল তার মেয়েকে দেখার উদ্দেশ্যে সাবেক স্ত্রীর বাড়িতে যান, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে সেখানে থাকতে দেননি। নিরুপায় হয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ির পাশেই অবস্থিত মোহাম্মদিয়া নুরানী মাদ্রাসার মাঠে ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যানুসারে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) ওই মাদ্রাসার মাঠে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কামাল ইট দিয়ে তার সাবেক শ্বশুর আমির হোসেনকে মারধর করেন, যাতে তিনি আহত হন। এই ঘটনার পর পরদিন রোববার ঢাকা থেকে আসেন কামালের শ্যালক আকাশ। অভিযোগ রয়েছে, ওইদিন রাত ১১টার দিকে মাদ্রাসার মাঠে ঘুমন্ত কামালের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তার পেটের বাঁ পাশে, পিঠে, মাথায়, হাতে এবং বাঁ উরুতে ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"